এলপিজি খাতে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন। পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যাতে চাহিদা ও প্রয়োজনগুলো ভালোভাবে বোঝা যায়। আমরা ইউনাইটেড আইগ্যাস মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও এলপিজি শিল্পের ভবিষ্যতের জন্যই কাজ করছি। এ কারণেই আমরা ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করছি ও ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব।
শিল্প খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একত্র হলে অনেক সুফল পাওয়া সম্ভব। কারণ অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশকে প্রতি টন এলপিজি আমদানিতে ভারতের তুলনায় ৫০-৬০ ডলার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। যদি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি, সরবরাহ পর্যায়ে শক্তি ও সম্পদ একত্র করতে পারি, তাহলে তুলনামূলকভাবে কম দামে এলপিজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এর সুফল সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়বে এবং ব্যবসাকে আরো টেকসই করে তুলবে।
মনে রাখা দরকার, এলপিজি কোম্পানিগুলো বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা টেকসই ও নির্বিঘ্ন রাখতে এসব কোম্পানির টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি। এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর বা খুচরা বিক্রেতা মূলত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রথম স্তরের উদ্যোক্তা।
যদি এলপিজি সরবরাহ না থাকে, আমরা কেউ খেতে পারব না। অর্থাৎ টেকসই এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে পড়বে। ইউনাইটেড আইগ্যাস হিসেবে আমরা সব সময় আমাদের ভোক্তা ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের সবসময় গ্যাস থাকবে—এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় টেকসই গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান হতে চাই, যারা দেশের এলপিজি সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সে কারণেই আমরা আইগ্যাসের সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। দেশের প্রধান শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি, যেন আমরা একত্রে কীভাবে কাজ করতে পারি। সম্মিলিতভাবে কীভাবে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়, তা বুঝতে পারি। কারণ এখানে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কম।
বাজার পর্যায়ে সব কোম্পানিকেই ভোক্তার স্বার্থেই প্রতিযোগিতা করতে হবে। তবে বিচক্ষণ শিল্প খাত হিসেবে সরবরাহ পর্যায়ে আমাদের পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করাই উত্তম। আইগ্যাস একটি ৬৫ বছরের পুরনো তুর্কি কোম্পানি।
আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছি। এ যাত্রা শুরু হয়েছিল সিঙ্গার বাংলাদেশ দিয়ে, আর এখন তা আইগ্যাসের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার সন্ধানে সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশেক চৌধুরী তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন। আর আমি ছিলাম সেই বিনিয়োগ সফরের অতিথি বক্তা। আমাদের বিশ্বাস, আমরা যত বেশি একত্র হব, যত বেশি আলোচনা করব, ততই এলপিজির দাম কমানো সম্ভব হবে। আর তা সম্ভব হবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই।
হারুন ওরতাচ: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি লিমিটেড
[‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]









