১৯৬৩ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত গোপন নথি মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) প্রকাশ করা হয়েছে। সন্ধ্যায় মার্কিন জাতীয় সংরক্ষণাগার এবং রেকর্ড প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ১,১০০টিরও বেশি ফাইল প্রকাশ করা হয়, যা মোট ৩১ হাজার পৃষ্ঠারও বেশি। জাতীয় সংরক্ষণাগারে থাকা ৬ মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠা নথি, ছবি, চলচ্চিত্র, শব্দ রেকর্ডিং এবং হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত সামগ্রীগুলোর বেশিরভাগই আগে প্রকাশিত হয়েছে। খবর এপি।
ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর পলিটিক্স’-এর পরিচালক ও ‘দ্য কেনেডি হাফ-সেঞ্চুরি’ বইয়ের লেখক ল্যারি জে. সাবাতো বলেছেন, তার একটি গবেষক দল নথিগুলো পর্যালোচনা শুরু করেছে, তবে তাদের সম্পূর্ণ গুরুত্ব বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে।
সোমবার ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে যাওয়ার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তার প্রশাসন প্রায় ৮০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এসব অপ্রকাশিত নথি প্রকাশের আদেশ দিয়েছিলেন।
গবেষকরা অনুমান করেছিলেন যে, এখনো পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজারটি ফাইল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। গত মাসে এফবিআই জানিয়েছিল, তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত প্রায় ২,৪০০টি নতুন নথি খুঁজে পেয়েছে।
জন এফ. কেনেডির হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানার প্রতি কয়েক দশক ধরে মানুষের তীব্র আগ্রহ রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড জন্ম দিয়েছে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর ডালাস সফরে মোটরকেড শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কেনেডি গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ বছর বয়সী লি হার্ভে অসওয়াল্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই আততায়ী টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরি বিল্ডিংয়ের ষষ্ঠ তলায় স্নাইপার হিসেবে অবস্থান নিয়েছিলেন। দুই দিন পর কারাগারে স্থানান্তরের সময় অসওয়াল্ডকে গুলি করে হত্যা করেন নাইটক্লাব মালিক জ্যাক রুবি।
এক বছর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের গঠিত ওয়ারেন কমিশন ঘোষণা করে যে, অসওয়াল্ড একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন। এছাড়া, কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে এই প্রতিবেদন পারেনি বিতর্কের অবসান ঘটাতে। বরং ছড়িয়ে পড়ে বহু বিকল্প তত্ত্ব।
অসওয়াল্ড ছিলেন একজন প্রাক্তন মেরিন, যিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে টেক্সাসে ফিরে আসেন।
নতুন প্রকাশিত নথির মধ্যে ১৯৯১ সালের নভেম্বর মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত সিআইএ স্টেশনের একটি স্মারকলিপি রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, সোভিয়েত কেজিবির এক কর্মকর্তা অসওয়াল্ড সম্পর্কে পাঁচটি মোটা খণ্ডের নথি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করেছেন যে, অসওয়াল্ড কখনোই কেজিবির নিয়ন্ত্রণাধীন ছিলেন না।
নথিতে আরো বলা হয়েছে, অসওয়াল্ডের আচরণের কারণে সেই কেজিবি কর্মকর্তা মনে করতেন যে, কেউই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকাকালীন তাকে ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারিতে আনা হয়েছিল। নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, অসওয়াল্ড সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকাকালীন একজন দুর্বল শ্যুটার ছিলেন।
‘৯০ দশকের গোড়ার দিকে মার্কিন সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত সমস্ত নথি জাতীয় সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত থাকবে এবং ২০১৭ সালের মধ্যে এগুলো প্রকাশ করতে হবে। তবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে কিছু নথি গোপন রাখা যেতে পারে।
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি বাকি সমস্ত রেকর্ড প্রকাশ করবেন, তবে পরে তিনি কিছু নথি গোপন রাখেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়েও কিছু নথি প্রকাশ করা হলেও অনেক নথি অপ্রকাশিত থেকে যায়।
সাবাতো বলেন, তার দল সংবেদনশীল নথির এমন একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেছে যা পূর্বে বড় পরিমাণে সেন্সর করা হয়েছিল। সেখানে কয়েকটি নথি কিউবা সংক্রান্ত, কিছু আছে লি হার্ভে অসওয়াল্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত সিআইএ কী করেছে বা করেনি তা নিয়ে।
আগে প্রকাশিত কিছু নথিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে তখনকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করত। সিআইএর মেমো এবং তারবার্তাগুলোর মাধ্যমে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ আগে মেক্সিকো সিটিতে সোভিয়েত এবং কিউবান দূতাবাসে গিয়েছিলেন অসওয়াল্ড।










