নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর গাজায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনা তদন্ত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ। শুক্রবার (১৪ মার্চ) মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাশো বলেন, এই তদন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি বিদ্বেষের অবসান ঘটানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিশনের অংশ। খবর রয়টার্স।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিক্ষোভ হয়েছিল তা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে।

ট্রাম্প প্রশাসন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছে, ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল পুনর্বহাল করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বেশ কিছু নীতি পরিবর্তন করতে হবে। বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে এসব শর্ত উল্লেখ করা হয়। একই দিনে ফেডারেল এজেন্টরা নিউ ইয়র্ক ক্যাম্পাসের দুটি ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালায়। যদিও কোনো গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা রক্ষার কথাও বলছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসন যেসব কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিগত যেসব পরিবর্তনের শর্ত দিয়েছে সেগুলো হলো—

  • ইহুদি বিদ্বেষের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে।
  • পরিচয় গোপন বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে মাস্ক পরা নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকান স্টাডিজ বিভাগকে ‘একাডেমিক রিসিভারশিপ’-এর অধীনে আনতে হবে যাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিবর্তে সরকার এসব বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা চিঠির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করছে এবং সব ধরনের বৈষম্য ও ঘৃণার বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বসন্তে ভবন দখলের ঘটনায় যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শাস্তির মধ্যে সাসপেনশন, বহিষ্কার এবং ডিগ্রি বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ রয়েছে। তবে কতজন শিক্ষার্থী শাস্তি পেয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শুক্রবার কলাম্বিয়ার প্রধান ফটকে ফিলিস্তিনপন্থী সেই আন্দোলনের প্রধান নেতা মাহমুদ খলিলের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন কয়েকশো শিক্ষার্থী ও কর্মী। এক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী দিমিত্রি বলেন, সরকার কাকে শিক্ষা দেয়া হবে আর কাকে নয় তা নির্ধারণ করতে পারে না।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ শুরুর পর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় যেন ইসরায়েলি স্বার্থ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করে।

এই বিক্ষোভের অন্যতম নেতা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন অভিবাসন এজেন্টরা। খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও জননীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা।