যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টর্নেডোর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩১ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মিসৌরিতেই মারা গেছেন ১২ জন।

রোববার (১৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এছাড়া এই দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় দেশটির এই অঞ্চলে আবহাওয়ার আরো অবনতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, কানসাসে ধূলিঝড়ের কারণে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। টর্নেডোর আঘাতে এই অঞ্চলে ৫৫টিরও বেশি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

বিদ্যুৎ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পাওয়ার আউটেজ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় মিশিগান, মিসৌরি ও ইলিনয়সহ পাঁচটি রাজ্যে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে আরো তীব্র এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব লুইজিয়ানা, পশ্চিম জর্জিয়া, মধ্য টেনেসি ও পশ্চিম ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেলে টর্নেডো সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া ঝড় দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ায় মধ্য মিসিসিপি, পূর্ব লুইজিয়ানা, পশ্চিম টেনেসি, আলাবামা ও আরকানসাসে আকস্মিক বন্যা ও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) সতর্ক করেছে যে এই আকস্মিক বন্যা প্রাণঘাতী হতে পারে।

পাশাপাশি শনিবার রাতে আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক টর্নেডো সতর্কতাও জারি করা হয়।

এনডব্লিউএস এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অঞ্চলে ‘একাধিক তীব্র থেকে প্রবল শক্তিশালী টর্নেডো’ সম্পর্কেও সতর্ক করেছে।

সংস্থাটি জনগণকে শক্তিশালী অবকাঠামোর ভেতরে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং ঝড় না থামা পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে মিসৌরির গভর্নর মাইক কিহো বলেছেন, প্রবল ঝড় ও টর্নেডোতে রাজ্যটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং বহু প্রাণহানি ঘটেছে।

মিসৌরি জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৫টি কাউন্টিতে ১৯টি টর্নেডো আঘাত হেনেছে।

এছাড়া আরকানসাসে ৩ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। অঞ্চলটির গভর্নর সারা হাকাবি স্যান্ডার্স সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প এবং ওকলাহোমার গভর্নর কেভিন স্টিটও তাদের রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ওকলাহোমায় একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।