২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে জুতা খুলে নিরাপত্তা তল্লাশির যে নিয়ম চালু হয়েছিল, অবশেষে তা বাতিল হলো। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নিয়ম এক প্রজন্মের স্মৃতিতে গেঁথে আছে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাজনিত আতঙ্কের চিহ্ন হিসেবে। এবার নতুন প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ঘোষণা দিয়েছেন, এই নিয়ম এখন থেকেই আর প্রযোজ্য নয়। খবর সিএনএন।

এই ছোট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ৯/১১-পরবর্তী যুগের আরেকটি প্রতীক মুছে যাচ্ছে। কিন্তু জুতা খুলে যাওয়ার নিয়ম উঠে গেলেও, ৯/১১-এর দীর্ঘ ছায়া আজও মার্কিন রাজনীতিতে স্পষ্ট। সেদিন নিউ ইয়র্কের আকাশচুম্বী টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা, পেন্টাগনে আগুন ও পেনসিলভানিয়ায় বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর আমেরিকানরা ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। একটি নতুন প্রজন্ম সেই ভয়াবহতা না দেখেই বড় হয়েছে, কিন্তু সেই ঘটনার পরিণতি তারা আজও বহন করে।

ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে হওয়া সেই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করে। তালেবানকে হটিয়ে প্রথম ধাপে সাফল্য পেলেও ইরাক যুদ্ধ সেই পথ বদলে দেয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ একসময় হয়ে ওঠে বিভাজন, হতাশা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার উৎস।

৯/১১-এর পরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘ভালো বনাম মন্দের লড়াই’ হিসেবে যাকে চিহ্নিত করেছিলেন, সেই বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বাস্তব রূপ আজ অনেকটাই ভিন্ন। ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের ফলাফল, গুপ্তচরবৃত্তির নামে গোপন নজরদারি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নামে নাগরিক অধিকার খর্ব করার ঘটনা রাষ্ট্রের প্রতি মার্কিন জনগণের বিশ্বাসে গভীর অবিশ্বাস জন্ম দিয়েছে।

এই পটভূমিতেই বারাক ওবামার উত্থান ঘটে—যিনি ইরাক যুদ্ধের সমালোচক ছিলেন। আর এই যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশেই ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপ স্টেট’-বিরোধী অবস্থান, অভিজাতদের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও আমলাতন্ত্রের প্রতি অবিশ্বাস জন্ম নেয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেল কর্মকর্তাদের সহজে বরখাস্ত করার রায় দিয়ে ট্রাম্পকে সেই লড়াইয়ে আরও এগিয়ে দিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দরে জুতা খুলে যাওয়ার নিয়ম উঠে গেলেও, ৯/১১-এর ছায়া মার্কিন সমাজ, রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের গায়ে গভীরভাবে লেগে থাকবে। যুদ্ধের ময়দান থেকে না-ফেরা অনেক সেনা,সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ দমকলকর্মীদের পরিবার কিংবা সেই দিনটির স্মৃতি বহন করা নাগরিকদের মনে এই ইতিহাস কোনোদিনও মুছে যাবে না। আর রাষ্ট্রীয় নীতিতে কেবল রূপ বদলে তার প্রতিফলনও হয়তো চলতেই থাকবে।