প্রেসিডেন্সির ছয় সপ্তাহের মাথায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রিত ইউএস ক্যাপিটলে এসে একটি দীর্ঘ বক্তৃতায় বলেছেন, আমরা ৪৩ দিনে যা অর্জন করেছি, তা অনেক প্রশাসন চার বা আট বছরেও অর্জন করতে পারেনি, এবং আমরা কেবল শুরু করেছি। খবর বিবিসি।

ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন, তার প্রেসিডেন্সির শুরুতে ব্যাপক সাফল্য এসেছে এবং জাতির মনোভাবের মধ্যে তিনি গর্ব ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজেকে জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে তুলনা করেন এবং তার নির্বাচনে বিপুল বিজয়ও তুলে ধরেন।

মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প তার সরকারের কিছু সাফল্য তুলে ধরেন, যেমন— শত শত নির্বাহী আদেশ, বিদেশী সাহায্য স্থগিত, অবৈধ সীমান্ত পারাপারের হার কমানো এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে প্রত্যাহার। তিনি ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের নারীদের ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং স্কুল ও সেনাবাহিনী থেকে ‘ওক আইডিয়োলজি’ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন।

ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের বক্তৃতার সময় বরফশীতল নীরবতা পালন করতেই দেখা গেছে। মাঝে মধ্যে ‘মিথ্যা’ ও ‘অসত্য’ লেখা কালো সাইন তুলে ধরেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় সমস্যার জন্য ট্রাম্প এ সময় ডেমোক্র্যাট শিবির ও জো বাইডেনকে তুলোধুনো করেন।

false lie

ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করছে ডেমোক্র্যাটরা। ছবি: রয়টার্স

অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প বলেন, তিনি শ্রমজীবী পরিবারের জন্য জরুরি পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন এবং ব্যবসায়িক অগ্রগতির জন্য পদক্ষেপ নেবেন। এছাড়া, তিনি ইলন মাস্কের দিকে ইঙ্গিত করে সরকারের অপচয় কমানোর জন্য তার ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডোজ) চালু করবেন বলে জানান।

ট্রাম্প তার বাণিজ্য নীতি রক্ষায় আরো একবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার কথা বলে জানান, পরবর্তী মাসে সমস্ত বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরো শুল্ক আরোপ করবেন তিনি।

ভাষণের শেষে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।

ট্রাম্পের এই ভাষণ ছিল আধুনিক যুগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেয়া কংগ্রেসে দীর্ঘতম বক্তৃতা। তার সমর্থকরা ট্রাম্পের অনেক কিছুর প্রশংসা করলেও বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন।