মার্কিন অভিবাসন এজেন্টরা নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে গ্রেফতার করেছে। খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও জননীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। খবর রয়টার্স।

শুক্রবার (৭ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার একদিন পরই শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ (আইসিই) বিভাগের এজেন্টরা খলিলকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা থেকে আটক করে।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা কিছু বিদেশী শিক্ষার্থীর ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা হামাস সমর্থকদের আমেরিকা থেকে বের করে দেব।‘

তবে খলিলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধ বা হামাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগের অভিযোগ আনেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র বলা হয়েছে, তিনি ‘হামাস সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিলেন।

সিরিয়ার এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠেছেন মাহমুদ খলিল। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের একজন প্রধান আলোচক ছিলেন তিনি। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন দখলে জড়িত ছিলেন না বরং, প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন খলিল।

সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খলিলের স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এছাড়া, খলিল নিজে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) বলে নিউ ইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন জানিয়েছে। তার গ্রেফতারের ঘটনাকে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। খলিল বর্তমানে নিউ জার্সির এলিজাবেথে অবস্থিত অভিবাসন বন্দিশিবিরে আটক রয়েছেন।

এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে ‘ইহুদিবিদ্বেষী কার্যকলাপের’ কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি কারণে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছে, তারা শিক্ষার্থীদের আইনগত অধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।