অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই সমস্যার সমাধান হয়তো সহজ হবে না। আর প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন তা নিয়েও ট্রাম্প এখনো কিছু বলেননি। খবর এপি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে ফিরে আসছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলছে অভূতপূর্ব সংঘাত ও অনিশ্চয়তা। তিনি এই পরিস্থিতির সমাধানের অঙ্গীকার করেছেন। তবে, ইসরায়েলের প্রতি তার অতীতের দৃঢ় সমর্থন এবং প্রচারণার সময় গাজায় চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া উচিত বলে তোলা জোরালো দাবি, রিপাবলিকান পার্টির বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি এবং তার অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা—এসব বিষয় নিয়ে তার দ্বিতীয় মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে যদি অভিষেকের আগেই কোনোরকম যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ট্রাম্প এমন সময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন যখন গাজার ভয়াবহ যুদ্ধ চলমান এবং ইসরায়েল লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কোনোভাবেই কমছে না। তার উপর, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানের প্রভাবিত বাহিনীর সঙ্গেও ইসরায়েলের সংঘাত চলছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইসরায়েলের জন্য শীর্ষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুরো প্রচারণা জুড়েই ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ শেষ করুন এবং শান্তির পথে ফিরে আসুন, মানুষ হত্যা বন্ধ করুন।
ট্রাম্প ইসরায়েলকে বারবার ‘কাজ শেষ করার’ এবং হামাসকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তা করা হবে সে বিষয়ে কিছু বলেননি। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক বিষয়ক পরিচালক ডেভিড মাকোভস্কি প্রশ্ন করেন, কাজ শেষ করা মানে কি হামাসের অবশিষ্টাংশ মোকাবেলায় স্বাধীনভাবে কাজ করা? নাকি কাজ শেষ করা মানে যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া উচিত? তার (ট্রাম্প) কথার ধোঁয়াশাপূর্ণ অংশ এটি।

ট্রাম্প কীভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কাজ করবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ইসরায়েলি নেতার কঠোর নীতির প্রতি ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের জন্য করা একটি চুক্তি থেকে একতরফাভাবে সরে আসা। নেতানিয়াহু বহুদিন ধরে চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছেন।
ট্রাম্প ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা বিরোধপূর্ণ শহরটির ওপর ইসরায়েলের দাবিকে কেবল আরো শক্তিশালীই করেছে। সে সঙ্গে, গোলান মালভূমির অধিগ্রহণকেও সমর্থন করেন ট্রাম্প, যা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় সিরিয়া থেকে দখল করা হয়েছিল। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা ব্যাপকভাবে ইসরায়েলের পক্ষে হিসেবে দেখা হয়। তার প্রেসিডেন্সির সময় ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বাড়তে থাকে, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ট্রাম্প ইসরায়েল এবং চারটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তি করতে সহায়তা করেন, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির উপর নির্ভরশীল ছিল না। উল্টো এটি ছিল নেতানিয়াহুর জন্য এক বড় বিজয়।
বাইডেন প্রশাসনের অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো কখনো ইসরায়েলের প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ ধীরও করা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। নেতানিয়াহু আশা করছেন যে, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
নেতানিয়াহুর মতো ট্রাম্পও যুদ্ধোত্তর গাজার শাসন ব্যবস্থা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি। তিনি বলেছেন যে, উন্নয়ন সংস্থাগুলো গাজাকে ‘মোনাকোর চেয়েও ভালো’ বানাতে পারে কারণ গাজার অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সেরা, গাজার পানি এবং সবকিছুই সেরা।
ফিলিস্তিনি নেতাদের সাবেক উপদেষ্টা ডায়ানা বুট্টো বলেন, গাজার জন্য একটি দৃঢ় মার্কিন পরিকল্পনার অভাব এবং ইসরায়েলের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ডানপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব গাজা এবং সাধারণভাবে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতকে হতাশাজনক করে তুলেছে। তিনি বলেন, আমি এমন কোনো প্রেসিডেন্টকে দেখতে পাচ্ছি না যিনি ফিলিস্তিনিদের নিয়ে ভাববেন।










