এ বছর বণিক বার্তা ও বিআইডিএস গুণীজন সংবর্ধনার জন্য তিনজনকে মনোনীত করেছে। এটি খুবই যথার্থভাবে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। এ তিনজন তাদের নিজ নিজ অবস্থানে খুবই পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তারা আমার খুব পরিচিত মানুষ। এর মধ্যে ফিরদৌসী কাদরী আমাদের দেশের শুধু একজন খ্যাতিমান নারী গবেষকই নন, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি পরিচিত। আমার বন্ধু সালেহীন কাদরীর স্ত্রী হিসেবে ওনাকে আমি পারিবারিকভাবে চিনি। তিনি যে আন্তর্জাতিক মানের একজন বৈজ্ঞানিক, বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, পারিবারিক ক্ষেত্রে আমরা সেটি ভুলে যেতাম। আজকে তিনি সম্মাননা পাচ্ছেন, এতে আমি খুবই আনন্দিত।
প্রফেসর ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী শিক্ষাঙ্গনের মানুষ। তার সঙ্গে আমার বহুদিনের পরিচয়, বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। আমরা একসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে অনেক বিষয়ে পরামর্শ করেছি। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তার সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি, যা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার একজন ছাত্রের পিএইচডি ভাইভা বোর্ডে আমার অনুরোধে তিনি ছিলেন। সে পরীক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে। আমি তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ব্যবসা জগতের মানুষ হলেও তিনি সামাজিক ও কল্যাণমুখী অনেক কাজ করতেন। সে সূত্রে আমি তাকে ঘনিষ্ঠভাবে চিনি। তিনি খুবই দেশপ্রেমিক, সৎ ও বন্ধুসুলভ মানুষ। ১৯৯৬ সালের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি আমার সঙ্গেই ছিলেন। ওই সময়ে তিনি আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। সরকারে থাকার সময়ে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ও বনেদি পরিবারের সন্তান। কর্মজীবনে প্রথমে বিদেশী কোম্পানিতে ভালো চাকরি করতেন। সে চাকরি থেকে বেরিয়ে ছোট একটি ট্যানারি খুলে জুতা শিল্পকে প্রসারিত করতে উদ্যোগ নেন এবং ঝুঁকি গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশে একজন তরুণের পক্ষে এ ধরনের ঝুঁকি নেয়া ছিল অত্যন্ত সাহসী সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের কারণে আজকে শুধু চামড়া বা পাদুকা শিল্পেই নয়, সামগ্রিক শিল্পজগতে তিনি অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি যে শুধু নিজের শিল্পকে গড়ে তুলেছেন তা নয়, এটাকে রফতানিমুখী করেছেন। রফতানি খাতেও তিনি প্রথম উদ্যোক্তা।
আমি এ তিনজন গুণীজনের প্রতি শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাচ্ছি।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ: উপদেষ্টা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়










