ত্রয়োদশ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই পড়তে হলো মারুফ আক্তারের ঝড়ের মুখে। তার গতির বলে পরাস্ত হয়ে পরপর বোল্ড হয়েছেন পাকিস্তানের ওমাইমা সোহেল ও সিদরা আমিন। এরপর পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটনা স্পিনার নাহিদা আক্তার। তিনি ফেরান মুনীবা আলীকে। এরপর আরো ৫ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। বোর্ডে ১০০ রান তোলার পরই সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে তাদের। অধিনায়ক ফাতিমা সানা খানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন স্পিনার ফাহিমা খাতুন। এরপর দ্রুতই বাকি ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ১২৯ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। শেষ তিনটি উইকেট নেন স্বর্ণা আক্তার। বোলারদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় নিগার সুলতানার দল।

১৩০ রান টার্গেটে নেমে দলীয় ৭ রানের মাথায় অভিজ্ঞ ফারজানা হক পিংকির উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর দলকে টানছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও রুবাইয়া হায়দার। ৩০ বলে ১০ রান করে আউট হয়ে যান সুপ্তা। দুই উইকেট পতনের পর রুবাইয়ার সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। এ দুজনের দৃঢ়তায় জয়ের কাছাকাছি বাংলাদেশ। ৭৭ বলে ৬২ রানের জুটি গড়েন দুজন। ৪৪ বলে ২৩ রান করে বিদায় নেন জ্যোতি। বাংলাদেশ দল তখন জয় থেকে ৩৩ রান দূরে ছিল। রুবাইয়া ৪৬ রানে ব্যাট করছিলেন। এরপর রুবাইয়ার ফিফটি ও সোবহানা মোস্তারির দারুণ ব্যাটিংয়ে (১৯ বলে ২৪ রান) ১১৩ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। এর আগে ২০২২ সালে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ৮ দলের মধ্যে সপ্তম হয় বাংলাদেশ, তাদের নিচে ছিল পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গত আসরে হ্যামিল্টনে পাকিস্তানকে ৯ রানে হারিয়েছিল নিগার সুলতানার দল। এবার প্রথমেই সেই পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ১৬টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান ৮টি ও বাংলাদেশ ৭টি জয় পেয়েছে। গত এপ্রিলে লাহোরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে সর্বশেষ মুখোমুখি হয় দুটি দল, যে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। তার ২০২৩ সালের নভেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১-এ হারায় নিগারের দল। পাকিস্তান প্রথম ওয়ানডে ও বাংলাদেশ তৃতীয়টি সরাসরি জিতে যায়। দ্বিতীয় ওয়ানডে ‘টাই’ হওয়ার পর সুপার ওভারে জিতেছিল বাংলাদেশ।