দুবাইয়ে আজ বুধবার এশিয়া কাপে সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতকে হারাতে ২০ ওভারে ১৬৯ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতীয়রা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান তুলতে সমর্থ হয়। জবাব দিতে নেমে জয়ের দারুণ সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১২৭ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ৫১ বলে ৬৯ রান করেন সাইফ আলী। দলের হারে বিফলেই যায় তার লড়াই। এ জয়ে সবার আগে ফাইনালে উঠেছে ভারত।

পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলে নেয়া ভারতকে হাতছানি দিচ্ছিল দুশ রান। যদিও বাংলাদেশের বোলারদের দারুণ প্রত্যাবর্তনে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৬৮ রান তুলতে সমর্থ হয়েছে ভারত।

অভিষেক শর্মা ৩৭ বলে ৭৫ রান তুলে দেয়ার পরও ভারতকে দুশ করতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারত। শেষ ১২ বলে বাংলাদেশ মোটে ১৩ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন জাকের আলী অনিক। সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে জাকেরই টস করতে নামেন এবং টসে তিনি জিতেছেন।

চার পরিবর্তন নিয়ে নামে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও লিটন দাস খেলছেন না। তাদের জায়গা নিয়েছেন রিশাদ হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ।

সুপার ফোরে এর আগে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত, শ্রীলংকাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সমান ২ পয়েন্ট ঝুলিতে নিয়ে ফাইনালে চোখ রেখে আজ সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। বিজয়ী দল ফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোর মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে অপরাজিত ভারত, যারা টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এর মধ্যে পাকিস্তানকে দুবার হারিয়েছে তারা। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানকেও হারিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ চার ম্যাচের তিনটি জিতেছে। হংকংকে হারিয়ে শুভসূচনা করার পর শ্রীলংকার কাছে হেরে যায় লিটন দাসের দল। এরপর আফগানিস্তানকে হারিয়ে তারা সুপার ফোরের টিকিট নিশ্চিত করে। এবার মুখোমুখি দুই দল।

ভারত-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি লড়াইটা বড্ড একপশে। এখন পর্যন্ত ১৭ বারের মোকাবেলায় ১৬টি জয় পেয়েছে তারা। বাংলাদেশ একমাত্র জয়টি পায় ২০১৯ সালের ভারত সফরে। সেবার দিল্লিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জিতে নিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি।

এখন পর্যন্ত তিনবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১২ ও ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে এবং ২০১৮ সালে আরব আমিরাতে ফাইনালে ওঠে টাইগাররা। ২০১২ সালে পাকিস্তানের কাছে ও পরের দুবার ভারতের কাছে শিরোপার ম্যাচে হেরে যায় তারা।

বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী (উইকেটকিপার ও অধিনায়ক), শামীম হোসেন, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

ভারত একাদশ: অভিষেক শর্মা, শুবমান গিল, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), সাঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, জশপ্রীত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী।