দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপ ফাইনালে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এ রান তাড়া করতে নেমে ২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয়ে নবমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতল ভারত।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তান পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৫ তুলে। তারা বোর্ডে ১০০ রান পায় ৬৮ বলে। একটি পর্যায়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১১৩/১। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসে পড়ে পাকিস্তান। সালমান আগার দল মাত্র ৩৩ রানের মধ্যে পরের ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯.১ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায়!
অথচ দুর্দান্ত সূচনা করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়ে তারা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের আশা দেখান। ইন-ফর্ম ব্যাটার ফারহান ফিফটি তুলে নেন ৩৫ বলে। তার দৃঢ়তায় ৯ ওভারে ৭৭ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। দশম ওভার থেকে শুরু হয় বিপর্যয়। ফিফটি তুলে নেয়ার পরের ওভারে স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীকে বিশাল এক ছক্কা মারেন ফারহান। পরের বলে আবারো ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন তিলক ভার্মাকে। ৩৮ বলে ৫৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।
সেখান থেকে ১৯ বলে ২৯ রানে জুটি গড়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ একশ পার করান অভিজ্ঞ ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব। ১১.২ ওভারে ১০০ রান পেয়ে যায় পাকিস্তান। তখনো তারা ভাবেনি সামনে কত বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। ১৩তম ওভারে স্পিনার কুলদীপ যাদবের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন সাইম। ১১ বলে ১৪ রান করেন তিনি।
বরুণ ও কুলদীপের সঙ্গে যোগ দেন আরেক স্পিনার অক্ষর প্যাটেল। এ তিনজনের ঘূর্ণিতে নাকাল হয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। পরের ওভারে মোহাম্মদ হারিসকে শূন্য রানে ফেরান অক্ষর। পরের শিকার ফারহানের সঙ্গে ৮৪ ও সাইমের সঙ্গে ২৯ রানে জুটি গড়া ফখর। ফারহানের পর আরেক ওপেনার ফখরকেও সাজঘরে ফেরালেন স্পিনার বরুণ। ফারহানের মতো তিনিও ছক্কা মারার পরের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন (১২৬/৪)।
১২৬ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ৮ রানের মধ্যে আরো চার উইকেট হারায় পাকিস্তান (১৪৪/৮)। এ উইকেটগুলো ভাগাভাগি করেন বরুণ, কুলদীপ ও অক্ষর। এরপর পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট শিকার করেন পেসার জশপ্রীত বুমরাহ। ১৮তম ওভারে হারিস রউফকে ও ২০তম ওভারে মোহাম্মদ নওয়াজকে ফেরান তিনি।
এরপর পাকিস্তানও দ্রুত বোলিং সফলতা পায়। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার সঙ্গে টানা তিন ফিফটির পর ফাইনালে দ্রুত আউট হলেন অভিষেক শর্মা। দ্বিতীয় ওভারে তাকে সাজঘরে ফেরান ফাহিম আশরাফ। মিড-অনে হারিস রউফকে ক্যাচ দেন চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৬ বলে ৫ রান করেন তিনি। পরের ওভারে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে (১) ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে শুবমন গিলকে আউট করে পাকিস্তানকে সংহত অবস্থান গড়ে দেন ফাহিম। ১০ বলে ১২ রান করেন গিল। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। ৫৩ বলে ৬৯ রান করে ভারতকে জিতিয়েছেন তিলক ভার্মা।










