সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিন বিকালেই আয়ারল্যান্ডের পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। বাকি ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ২১৫ রানে পিছিয়ে ছিল সফরকারীরা। আজ শুক্রবার চতুর্থ দিন অবিশ্বাস্য লড়াই করে আইরিশরা। তারা ৪১.২ ওভার খেলে বোর্ডে ১৬৮ রান যোগ করতে সমর্থ হয়। এরপরও ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি অ্যান্ডি বালবির্নির দল। বাংলাদেশ জিতেছে ইনিংস ও ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে।

অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ও ম্যাথিউ হামফ্রেস জুটি সকালে দৃঢ়তা দেখিয়ে বোর্ডে যোগ করেন ৩০ রান। দলীয় ১১৬ রানে হামফ্রেসকে আউট করে এ জুটি ভাঙেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এরপর অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নিকে নিয়ে বোর্ডে ৬৬ রান যোগ করেন ম্যাকব্রাইন। এ দুজন ১১৯ বল ভুগিয়েছেন স্বাগতিকদের। বালবির্নিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে এ জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত স্পিনার হাসান মুরাদ। দলীয় দুশ রানের আগে (১৯৮/৮) ম্যাকব্রাইনকে সাজঘরে ফেরান পেসার নাহিদ রানা।

৮ উইকেট পতনের পর জর্ডান নিল (৩৬) ও ব্যারি ম্যাকার্থির (২৫) দারুণ ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড আড়াইশ রান পেরিয়ে যায়। ৫৬ বল খেলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাদের লড়াইয়ে হারের ব্যবধান কমলেও হার এড়াতে পারেনি সফরকারীরা। ৬০ রানে ৪ উইকেট নেন হাসান মুরাদ। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ৩টি ও নাহিদ রানা ২টি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ২৮৬ বলে ১৪ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ১৭১ রান তোলা মাহমুদুল হাসান জয়।

দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ, আর দুই দলের হেড-টু-হেড ইতিহাসে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকল ২-০তে। আগামী বুধবার মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এরপর চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুটি দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড: ২৮৬ ও ২৫৪ (ম্যাকব্রাইন ৫২, স্টার্লিং ৪৩; মুরাদ ৪/৬০, তাইজুল ৩/৮৪, নাহিদ রানা ২/৪০)। বাংলাদেশ: ৫৮৭/৮/ডি। ফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ৪৭ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মাহমুদুল হাসান জয় (১৭১ রান)। সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।