ওয়েম্বলির আকাশে এদিন যেন লাল-নীল আবির ছড়িয়ে গেল। ইতিহাসে প্রথম বড় ট্রফি জিতে নিল ক্রিস্টাল প্যালেস এবং যেভাবে সেটা এল তা চিরকাল গেঁথে থাকবে সমর্থকদের হৃদয়ে। এর আগে এফএ কাপের ফাইনালে দুইবার পরাজয়ের বেদনার পর এবার ম্যানচেস্টার সিটিকে নাটকীয় ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপ জিতে নিল প্যালেস।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে গোল করেন দলের প্লেমেকার এবেরেচি এজে। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে দারুণ এক বল বাড়িয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার দানিয়েল মুনোজ। নিখুঁত এক ভলিতে বল জালে জড়ান এজে।
তবে প্যালেসের আসল নায়ক ছিলেন ডিন হেন্ডারসন। ৩১তম মিনিটে ওমর মারমুশের নেয়া পেনাল্টি ঠেকানোর সঙ্গে ফিরতি শটেও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান এই প্রাক্তন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলকিপার। কিন্তু বিতর্কও পিছু ছাড়েনি তাকে।
২৪তম মিনিটে আরলিং হালান্ডকে থামাতে গিয়েই তিনি হাত লাগিয়েছিলেন বক্সের বাইরে। ভিডিও ফুটেজে তা দেখা গেলেও রেফারি তাকে মাঠ থেকে বের করে দেননি। ম্যাচ শেষে গার্দিওলার সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় সেই বিতর্কের রেশই টেনে দেয় আরো খানিকটা।
তবু দিন শেষে ইতিহাস লেখা হয় ফলাফল দিয়েই। অলিভার গ্লাসনারের অধীনে অনন্য ডিফেন্সিভ শৃঙ্খলায় দলটি বারবার আটকে দেয় সিটির আক্রমণ। গার্দিওলার দল অনেকটা একই প্যাটার্নে বারবার আক্রমণে গেছে। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব ও হেন্ডারসনের দুর্দান্ত সেভ বারবার হতাশ করেছে গার্দিওলার দলকে।
নিয়মিত সময়ের শেষ মুহূর্তে কেভিন ডি ব্রুইনার দুর্দান্ত এক পাস পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন তরুণ নিকো ও’রেইলি। এরপর যোগ করা ১০ মিনিটের নাটকীয়তায় একাধিকবার গোলের কাছে গিয়েও ব্যর্থ ম্যানসিটি। অভিষিক্ত ক্লদিও এচেভেরির দুটি প্রচেষ্টা হেন্ডারসনের কাছে আটকে যায়। ডি ব্রুইনার শট চলে যায় পোস্টের বাইরে।
শেষ বাঁশি বাজার পর দৃশ্যপট যেন কাব্যিক—প্রায় প্রতিটি প্যালেস খেলোয়াড়ই মাঠে লুটিয়ে পড়েছেন, চোখে জল, শরীরে ক্লান্তি, কিন্তু হৃদয়ে পূর্ণতা।
এই পরাজয়ে সিটির জন্য হতাশাজনক মৌসুমের ষোলকলাই পূর্ণ হলো। গার্দিওলার অধীনে প্রথমবার তারা কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করল। এমনকি বিদায়ী ডি ব্রুইনার জন্যও কোনো ‘ফেয়ারওয়েল ট্রফি’ রইল না। এখন তাদের লড়াই কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার জন্য।
অন্যদিকে, এই জয় প্যালেসের জন্য কেবল ট্রফি জয়ই নয়, ইউরোপা লিগে প্রথমবার জায়গা পাওয়ার আনন্দও বয়ে এনেছে। এই মৌসুমে গ্লাসনারের নেতৃত্বে যেভাবে দলটি নিজেদের খুঁজে পেয়েছে, তা ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা গল্প। এই ম্যাচও তার প্রমাণ। প্রথম মিনিট থেকেই ৫-৪-১ ফর্মেশনে রক্ষণে শক্ত প্রাচীর তৈরি করে সিটির আক্রমণ থামিয়েছে প্যালেস। এই জয় প্যালেসের জন্য শুধু ট্রফি নয়—পরিচয়, গর্ব, আর ইউরোপীয় যাত্রার টিকিট।










