চলতি বছরের শেষ ম্যাচ খেলতে বুধবার (২০ নভেম্বর) পেরুর বিপক্ষে বুয়েনস আয়ার্সে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। গেল ম্যাচেই প্যারাগুয়ের কাছে হেরেছিল দল। সেটাও আবার এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৮ বছর পরের হার। স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসার তাগিদ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। সেই কাজটা যে সহজ ছিল না, সেটাও বোঝা গেল আর্জেন্টিনার মাঠের খেলায়। ঘরের মাঠ লা বোম্বানায় পূর্ণ সমর্থন পেয়েও এক গোলের বেশি দিতে পারেনি স্বাগতিকরা। পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্ক্যালোনির দল।

এ ম্যাচে ইনজুরি সমস্যার কারণে শুরুর একাদশে ছিল না একাধিক তারকা। আলবিসেলেস্তেদের খেলায় তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে মিডফিল্ড আর আক্রমণভাগে নিয়মিত খেলোয়াড়দের পাওয়া গেলেও, বিল্ডআপে কিছুটা ভুগতে হয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। প্রথমার্ধে ৭৬ শতাংশ বল পায়ে রাখলেও, তাই কিছুটা মলিন ছিল তাদের আক্রমণ। পুরো ৪৫ মিনিটে কেবল একবারই গোলমুখে শট নিতে পেরেছিল তারা।

ম্যাচের ২২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সে বল পেয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। আতলেটিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকারের শট পরে ফিরে আসে বারে লেগে।

গোলের অতটা কাছে আর যেতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দলের অধিনায়ক মেসি একাধিকবার ফাইনাল থার্ডে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও, সেখান থেকে স্কোরশিটে নাম ওঠানো হয়নি কারোরই।

আলবিসেলেস্তেদের সেই গোলের খরা কাটল দ্বিতীয়ার্ধে এসে। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে দারুণ এক চিপ করেন লিওনেল মেসি। ইনফর্ম স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ শূন্যে ভেসে দুর্দান্ত এক ভলি করেন। তাতেই ডেডলক ভাঙলো আর্জেন্টিনার। ৫৫ মিনিটের সেই গোলেই বছরের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে লিড নেয় আর্জেন্টিনা।

এ জয়ের পর ১২ ম্যাচে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ২৫ পয়েন্ট। নিজেদের খেলা যখন শেষ হয়েছে, তখন লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা এগিয়ে আছে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে। দুই নম্বরে থাকা উরুগুয়ে নিজেদের ম্যাচে জয় পেলে সেটা নেমে আসবে ৩ পয়েন্টে। তবে শীর্ষস্থান হারাতে হচ্ছে না তাদের। পরেরবার আর্জেন্টিনাকে মাঠে দেখা যাবে ২০২৫ সালের মার্চে।