ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে পড়াশোনা শেষে সেখানেই খণ্ডকালীন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয় কমল দত্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান
পারকাশন নিয়ে কাজ করতে কেন আগ্রহী হলেন?
আমার পরিবার সংগীত নিয়ে আগ্রহী ছিল। সামান্য চর্চা ছিল গানবাজনার। সে জায়গা থেকেই আমার বাবার ইচ্ছা ছিল আমাকে তবলা শেখাবেন। শখের বশেই শেখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। এখানে প্রথম দুটো সেমিস্টারে সবাই একসঙ্গে থাকে। তখন গান, তবলা, পারকাশন সব ধরনের কোর্সই সবার জন্য থাকে, আমারও ছিল। সে সময় লক্ষ করলাম, ভোকাল মিউজিকের চেয়ে পারকাশন বা রিদম ইনস্ট্রুমেন্টের দিকে আমার ঝোঁক বেশি এবং ভালো লাগছে। তখন যেসব কোর্সের পরীক্ষা হতো, সেগুলোয় আমি ভালো করছিলাম। সব মিলিয়ে চিন্তা করলাম, যেহেতু ভালো লাগছে এবং এখানে সাফল্যও ভালো, তাহলে এদিকেই যেতে পারি।
মিউজিকের ক্ষেত্রে পারকাশনের গুরুত্ব আসলে কতটুকু? বাংলাদেশে এখন পারকাশন, বিশেষ করে তবলা নিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না—এর কারণ কী?
সার্বিকভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এখনো ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেনি বলে আমার মনে হয়। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো অনেক কাজ করার জায়গা পড়ে আছে, যেসব জায়গায় আমরা হাত দিতে পারিনি। আমরা আস্তে আস্তে উন্নয়নের চেষ্টা করছি। আগের সময়ে যারা ছিলেন, তারা তাদের জায়গা থেকে অবশ্যই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে তবলা বা পারকাশনের জায়গাটা ভারতে বা বিশ্বব্যাপী যেভাবে বেড়েছে, সে জায়গায় আসতে আমাদের অনেক সময় লেগে গেছে।
তবলা, পারকাশন, মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট নিয়ে আপনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ কতটা দেখছেন?
যথেষ্ট আগ্রহ আছে। আমাদের সিনিয়র বা আগে যারা ছিলেন, তারা আমাদের জন্য প্লাটফর্মটা তৈরি করে দিয়ে গেছেন। এখন আমরা যখন কাজ শুরু করছি, তখন দেখাতে পারছি এ জায়গার বৈচিত্র্য কীভাবে তৈরি করা যায়, জায়গাটা কতটা গভীর ও বিস্তৃত—যা নিয়ে আগে খুব বেশি চর্চা হয়নি। এখন অনেক শিক্ষার্থী তবলা বা পারকাশনে আসতে আগ্রহী।
বলিউডের সিনেমার বা ভারতের অন্য ইন্ডাস্ট্রির সিনেমার গানেও তবলার ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এ ব্যবহার নেই কেন?
আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের জায়গা থেকে ইন্ডাস্ট্রিকে বড় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, এ বিষয় নিয়ে ভাবার আরো অনেক জায়গা বাকি আছে, যেখানে আমরা এখনো পৌঁছতে পারিনি। আমরা অবশ্যই চিন্তা করছি, কিন্তু এখানে বাজেট একটা বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বাজেট আসলে অনেক বড় হতে পারত।
তবলা, পারকাশন বা মিউজিকের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, যারা মিউজিক নিয়ে কাজ করেন তাদের সঙ্গে অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা মিউজিক নিয়ে পড়াশোনা করছেন, পড়াচ্ছেন বা কাজ করছেন—আপনাদের যোগাযোগ বা এ বিষয় উন্নত করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। এখন সবচেয়ে বড় কথা হলো, একটা দেশের কালচার বা হেরিটেজ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা নির্ভর করে সে বিষয়ে কতটা গবেষণা ও একাডেমিক কাজ হচ্ছে তার ওপর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ সরাসরি পারফর্মার তৈরি করা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো সে জায়গাগুলো খুঁজে বের করা, যেখানে কাজ করলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে আরো বড় ও সমৃদ্ধ করা যায়।
আপনি উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন। কোথায় যাচ্ছেন এবং সেখানে কী নিয়ে কাজ করবেন, একটু আমাদের জানাবেন।
আমি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি, টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে মিউজিকোলজিতে মাস্টার্স করার জন্য। আমার মনে হয়েছে, আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে দাঁড় করাতে হলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টাকে একাডেমিক জায়গা থেকে আরো এক্সপ্লোর করতে হবে। বাংলাদেশে একাডেমিক জায়গাটা এখনো একদমই নতুন। আমার মনে হলো, এখানে কাজ করার অনেক জায়গা আছে, আর ওখান থেকে আরো জেনে এলে হয়তো বাংলাদেশের মিউজিককে আরো বেশি কিছু দিতে পারব।
আপনার কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কি?
আমার ইচ্ছা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরব এবং বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। কারণ আমাদের এখানে অনেক বড় বড় সম্পদ আছে, যেগুলো আমরা এখনো বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারিনি।










