ঢাকায় নিয়মিতই আয়োজন হচ্ছে শিল্প প্রদর্শনী। এর কোনোটি আলোকচিত্রের, কোনোটি চিত্রকর্মের আর কোনোটি পারফরম্যান্স আর্টের। এ সপ্তাহে ঢাকায় চলছে দুটি প্রদর্শনী। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার গ্যালারি জুমে চলছে শিল্পী রুবাইয়া সাওম দীনার একক প্রদর্শনী হারমোনি। গত শুক্রবার এ উদ্বোধন হয়েছে।
রুবাইয়ার এ প্রদর্শনীর মূল বিষয় নদী। আমাদের প্রকৃতি, জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে নদী। নদীর প্রবাহ, তীরবর্তী মানুষের জীবনধারা, সুখ-দুঃখ, আশা ও সংগ্রাম—সবকিছুই শিল্পীর সৃজনশীলতায় নতুনভাবে প্রতিফলন হয়েছে। কখনো নদী জীবনের সঞ্জীবনী শক্তি, কখনো বা মৃত্যুসম অন্ধকার, এ দ্বৈত সত্তাকেই দীনা তার রঙ ও রেখার মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেছেন।
শিল্পীর জন্ম ফরিদপুরে, পদ্মা নদীর তীরে। শৈশব থেকেই নদীর ছন্দ তার চিত্রকলায় বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই তার শিল্পকর্মে বারবার ফিরে আসে নদী ও নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাপনের গল্প।
প্রদর্শনীতে পারফরম্যান্স আর্ট, ভিডিও আর্ট, তেল রঙ, অ্যাক্রেলিক রঙ, জলরঙ, কালি-কলম ও রেখাচিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সৃষ্ট শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রতিটি কাজেই ফুটে উঠেছে নদীর ছন্দ, মানুষের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক এবং প্রবহমান জীবনের কথোপকথন।

হারমোনি চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। সোমবার থেকে শনিবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে।
এদিকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইশকুল শেষ করেছে তাদের দশম ব্যাচের ফটোগ্রাফি কোর্স। এ শিক্ষার্থীদের তোলা আলোকচিত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছে প্রদর্শণী ‘বাদ্যযন্ত্রে বাঁধা জীবন’।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রামে এমনই এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ‘মনিদাশ’ পাড়াকে সবাই ঢাক-ঢোল পাড়া হিসেবে চেনে। মনিদাশ পাড়ায় প্রায় ৩৫টি পরিবারের শতাধিক ব্যক্তি নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বানানোর কাজে জড়িত। তাদের তৈরীকৃত বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা দেশজুড়ে। আলোর ইশকুল আলোকচিত্র চক্রের দশম ব্যাচের সদস্যদের এবারের প্রয়াস ছিল, বাদ্যযন্ত্র বানানোর কাজে জড়িত মানুষের জীবনের বৈচিত্র্য ক্যামেরায় তুলে ধরা।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চিত্রশালায় মোট ৬৫টি আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের প্রদর্শনী। প্রদর্শনীটি শুধু বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ শিল্পের গল্প নয়। এটি মানুষের জীবন সংগ্রামের এক অদৃশ্য সিম্ফনি। এ ছবিগুলোয় দেখা যাবে সেই কারিগরদের, যাদের হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, কাঠ, চামড়া আর ধাতু রূপ নেয় সুরের বাহনে। সুর তৈরির আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস, অবহেলা, আর্থিক টানাপড়েন আর সময়ের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই। আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় এসব গল্প উঠে এসেছে।
গত শুক্রবার শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।










