গতকাল রাজধানীতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান কার্যালয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।
ইউপিএলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ইউপিএলকে আমরা ভাবতাম অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। কারণ মহিউদ্দিন আহমেদ নিজেও ওইউপি থেকে এসেছিলেন। ইউপিএলকে তিনি ওইউপির মানে উন্নীত করেছিলেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস ভারত ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও তাদের প্রকাশনা অফিস চালু করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহিউদ্দিন আহমেদ যেহেতু ইউপিএল তৈরি করেছেন, তাই আর প্রয়োজন হয়নি। তিনি বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্পকে ‘স্টেট অব দি আর্ট ইন পাবলিশিং ইন্ডাস্ট্রি’ বলে যে কথা প্রচলিত তা সম্ভব করেছিলেন।’
অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরো বলেন, মহিউদ্দিন ভাই চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের প্রায় সব সৃজনশীল লেখকের বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় এবং বিদেশে বাংলাদেশী লেখক ও বিদেশী লেখকদের অন্তত একটা করে বই ইউপিএল থেকে প্রকাশ করতে। অনেক লেখককে একত্র করে সৃজনশীল লেখকদের কাজ বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশের কাজ করেছেন তিনি ।
অনুষ্ঠানে অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ বলেন, ‘সৃজনশীল প্রকাশনা বলতে আমরা বুঝতাম গল্প-উপন্যাস। তবে মহিউদ্দিন ভাই আমাদের শিখিয়েছেন, যেসব জায়গা থেকে সৃজনশীলতা আসছে তার সবই সৃজনশীল প্রকাশনা। গবেষণামূলক বই প্রকাশ করাও সৃজনশীল কাজ। আমি প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কাজ করেছি দুই যুগেরও বেশি। তিনি আমাদের সবসময় প্রফেশনাল হতে বলতেন। তিনি তখনই আইকন ছিলেন।’
অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে কথা বলেন তার কন্যা ও ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাবার স্মরণে আরশি ট্রাস্ট নামে একটি ছোট সংগঠন শুরু করেছি। সেখানে কিছু কিছু কাজ শুরু হয়েছে। বাবার স্বপ্ন ছিল জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ—এ স্বপ্নটাই যতটুকু পারা যায় বাস্তবায়ন করতে আমরা শুধু ইউপিএল না, আরশি ট্রাস্টের মাধ্যমেও চেষ্টা করব।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী অধ্যাপক মেহতাব খানম, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের সৈয়দ জাকির হোসেন, মহিউদ্দিন আহমেদের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা।
স্মৃতিচারণ শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংগীতায়োজন। গান পরিবেশন করেন শিল্পী সায়ান, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ-এর বীথি ঘোষ ও রেবেকা নীলা, শিক্ষক নাভিন মুরশিদ, লুৎফিয়া আহমেদ, রুবাইয়া আহমেদ, লেখক মিল্লাত হোসেন, আলোকচিত্রী ইমতিয়াজ আলম বেগ, লেখক মুনতাসির মামুন ইমরান, মাহরুখ মহিউদ্দিন ও হাসিব উদ্দিন হোসেনসহ মহিউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।










