বছরজুড়ে নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বেশকিছু বাংলা গান দর্শক ও শ্রোতার মন ছুঁয়েছে। অডিও, সিনেমা ও নাটকের গান মিলিয়ে এ বছর সংগীতপ্রেমীদের জন্য ছিল বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা। অডিও গানের ক্ষেত্রে বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক নীরব থাকলেও সিনেমা ও নাটকের গান বছরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। পাশাপাশি কোক স্টুডিও বাংলার কয়েকটি গানও শ্রোতার প্রিয় তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

গুলবাহার: চলতি বছরের সবচেয়ে প্রশংসিত গানগুলোর একটি গুলবাহার। গানটির কথা ও সুর করেছেন ঈশান মজুমদার। কণ্ঠে আছেন ঈশান মজুমদার ও শুভেন্দু দাস শুভ। মে মাসে ঈশানের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর বছর শেষে গানটির ভিউ তিন কোটি ছাড়িয়েছে।

প্রেম, পুরান ঢাকা আর হারানো দিনের আবেশে তৈরি এ গান অল্প সময়েই শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পর সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ছড়ানোর পর গানটি আরো গতি পায়। গল্পনির্ভর এ গানে প্রেম, স্মৃতি ও নস্টালজিয়ার মেলবন্ধন রয়েছে, যা সব বয়সী শ্রোতাকে স্পর্শ করেছে। রহস্যময় গুলবাহার চরিত্রটি শ্রোতাকে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। ভিডিওতে পুরান ঢাকার অলিগলি, চায়ের দোকান, পুরনো বাস ও সেলুন গানটির আবহকে জীবন্ত করে তুলেছে। মুখ দেখানো ছাড়াই গুলবাহারকে অনুভব করার সুযোগ দিয়েছেন নির্মাতারা।

কিছু মানুষ মরে যায় পঁচিশে: চলতি বছরের আলোচিত ও প্রশংসিত গানগুলোর মধ্যে সাইফ জোহানের ‘কিছু মানুষ মরে যায় পঁচিশে’ উল্লেখযোগ্য। গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ সবই শিল্পীর নিজের করা। কোনো ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও ছাড়াই সাদামাটা লিরিক্যাল ভিডিও আকারে গানটি প্রকাশ করা হয় তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে।

তরুণ বয়সে স্বপ্নভঙ্গ, আবেগ হারিয়ে ফেলা ও কর্মজীবনে প্রবেশের সময় জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার গল্প উঠে এসেছে এ গানে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই গানের ভাবনা এসেছে বলে জানান সাইফ জোহান। প্রচারের আড়ালে থাকলেও মৌলিক গানে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

আমার বন্ধুরও বন্ধু আছে: জি-সিরিজ থেকে প্রকাশিত ‘আমার বন্ধুরও বন্ধু আছে’ গানটি শ্রোতার মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। গানটি গেয়েছেন পারভেজ খান। কথায় সোহাগ ওয়াজিউল্লাহ, সুর ও সংগীতায়োজন রিমো বিপ্লবের। ইউটিউবে গানটির ভিউ দুই কোটি ছাড়িয়েছে।

রাগের মাথায় কইলে কিছু রাইখো না অন্তরে: ফোক ধাঁচের এ গান সামাজিক মাধ্যমে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। টিকটক ও ফেসবুকে ব্যাপক ব্যবহার ছাড়াও ইউটিউবে ভালো ভিউ পেয়েছে গানটি। কণ্ঠ দিয়েছেন মরিয়ম ইসলাম। গীতিকার ও সুরকার পাগল মোস্তাক, সংগীতায়োজন করেছেন মুন্সি জুয়েল। ২৮ জুলাই প্রকাশিত গানটির ভিউ ১ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে।

Untitled-2

তুই আমার আলতা চুড়ি না: সানজিদা রিমির কণ্ঠে ‘তুই আমার আলতা চুড়ি না’ গানটি বছরের শুরুতেই আলোচনায় আসে। গানটির কথা লিখেছেন নূরে আলম মামুন, সুর আফনান অন্তর এবং সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ সজীব। প্রকাশের পর থেকেই গানটি জনপ্রিয়তা পায় এবং বছরজুড়ে এর ভিউ পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যায়।

ময়না: জুলাইয়ে কোনাল ও নিলয়ের কণ্ঠে প্রকাশিত ময়না গানটি অল্প সময়েই দর্শকের নজর কাড়ে। ইউটিউবে গানটির ভিউ ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। গীতিকার আসিফ ইকবাল, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আকাশ সেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী কোনালের কণ্ঠ গানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। মিউজিক ভিডিওতে প্রথমবারের মতো এ গানে স্বাধীনভাবে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা বুবলী। বড় বাজেট ও ফিল্মি স্টাইলে নির্মিত ভিডিওটি দর্শকের বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে।

পারব না তোমাকে ছাড়তে: ইমরান ও হোমায়রা ইশিকার কণ্ঠে ‘পারব না তোমাকে ছাড়তে’ গানটির কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান নিজেই। গত আগস্টে প্রকাশিত গানটির ভিউ প্রায় ৫০ লাখ, যা অল্প সময়ের মধ্যেই কোটির ঘর ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিনেমার গান: এ বছর সিনেমার গানেও ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। ‘বরবাদ’ সিনেমার ‘চাঁদমামা’ গানটি ব্যাপক আলোচিত হয়। প্রীতম হাসানের সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও অদিতি রহমান দোলা। ‘মহামায়া’ সিনেমায় মাঈনুল আহসান নোবেলের কণ্ঠে গানটিও প্রশংসা পায়।

‘তাণ্ডব’ সিনেমার ‘লিচুরও বাগানে’, ‘জিন-৩’ সিনেমার ‘কন্যা’ ও ‘জংলি’ সিনেমার ‘বন্ধু গো শোনো’ গানগুলোও শ্রোতাপ্রিয়তার তালিকায় ছিল। ‘বরবাদ’ সিনেমার ‘মায়াবী’ গানটিও ইমরান ও কোনালের কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

নাটকের গান: নাটকের গানেও ছিল শ্রোতার সাড়া। হাবিব ওয়াহিদ ও ন্যান্সির কণ্ঠে ‘আমার দিনগুলো সব হারিয়ে যায় আঁধারে’ গানটির ভিউ ২ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। কনা ও সজীব দাসের কণ্ঠে ‘যদি মনটা করি চুরি’ ও রেহান রসুল ও অবন্তী সিঁথির ‘এত প্রেম এত মায়া’ গানগুলোও দর্শকের মন ছুঁয়েছে।

চুড়ি ছাম ছাম

বছরের শেষ দিকে লুইপার কণ্ঠে প্রকাশিত ‘চুড়ি ছাম ছাম’ গানটি অল্প সময়েই আলোচনায় আসে। এক মাস না হতেই গানটির ভিউ ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা শ্রোতার আগ্রহেরই প্রমাণ।