২০১৮ সালে অভিনয়জীবন শুরু করে মাত্র ছয় বছরে ৪০০-এর বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এর মধ্যে শতাধিক নাটক ইউটিউবে কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে। সংখ্যাটা বলে দেয় দর্শক তাকে কতটা আপন করে নিয়েছে। কেয়া পায়েল ঢাকায় বেড়ে ওঠা তিন ভাইবোনের মধ্যে বড়।
মিষ্টি মুখাবয়বের এ অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকও সম্পন্ন করেছেন।
‘একটাই আমার তুমি’, ‘জিরো’, ‘ঘুড্ডি’, ‘ফ্লাইং কিস’, ‘সেদিন বৃষ্টি হবে’, ‘হৃদ মাঝারে’, ‘স্যারের বিয়ে’, ‘টিপু সুলতান’, ‘ইউ অ্যান্ড মি ফরএভার’ নাটকগুলো দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘বান্টির বিয়ে’, ‘টিউবলাইট’, ‘বজরা’, ‘সামার ব্রেক’, ‘বন্ধুত্ব নাকি প্রেম’ নাটকগুলোও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে প্রকাশিত প্রায় ২০টি নাটকেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন ‘এটা আমাদেরই গল্প’ সিরিজে মেহরীন চরিত্রে অভিনয় করে। মধ্যবিত্ত পরিবারের চেনা আবেগের গল্পে মেহরীন ছিল না বলা অনুভূতি আর সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রতীক। কেয়া পায়েল শুধু চরিত্রে অভিনয় করেননি, নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছেন তার মধ্যে। চোখের ভাষায়, নীরব অভিব্যক্তিতে মেহরীন হয়ে উঠেছে বাস্তবের এক চেনা নারী। দর্শক পর্দায় যা দেখেছে, তা অভিনয় মনে হয়নি, মনে হয়েছে যেন জীবন থেকে তুলে আনা এক টুকরো সত্যি।
নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ কেয়াকে এ চরিত্রে নিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, কেয়ার মধ্যে এক বিরল সংবেদনশীলতা আছে, যা একটি চরিত্রের ভেতরের আবেগ, দ্বন্দ্ব আর নীরব আর্তনাদকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে পারে। কেয়া সে বিশ্বাসের যথার্থ প্রতিদানও দিয়েছেন।
নির্মাতা বলেন, ‘কেয়া পায়েলের অভিনয়ের মধ্যে একটা সততা আছে, যা দেখলেই বোঝা যায়। ক্যামেরা চালু হওয়ার আগেই তিনি চরিত্রের গভীরে ঢুকে পড়েন। তার কাছে সংলাপ শুধু শব্দ নয়, এটা অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। অনেক সময় দৃশ্য শেষ হওয়ার পরও চরিত্রের আবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না তিনি। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীর এটাই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়।’
অভিনয়ের প্রতি এ নিষ্ঠা আর অক্লান্ত পরিশ্রমই আজ কেয়া পায়েলকে ছোট পর্দার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন করে তুলেছে। তার ইচ্ছা একটাই, দর্শকের ভালোবাসা যতদিন থাকবে, ততদিন অভিনয় চালিয়ে যাবেন।










