এ উৎসবের ২০২৮ সালের আসরে সম্মানজনক ‘কান্ট্রি অব অনার’ মর্যাদা পাওয়ার আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। এটি শুধু মর্যাদার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ইন্দোনেশিয়ার সিনেমা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও তরুণ প্রতিভাদের জন্য একটি বিশাল আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম তৈরি করতেই এ মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।
চলতি কান উৎসব ২০২৬-এ ভ্যারাইটির সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী ফাদলি জোন এ বৈশ্বিক এজেন্ডা ও পরিকল্পনার কথা জানান।
কেন এ উদ্যোগ?
ইন্দোনেশিয়ার চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে তাদের স্থানীয় বক্স অফিসে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরে এখনো সে অর্থে বড় কোনো ধারাবাহিক সাফল্য পায়নি দেশটি। এ শূন্যতা পূরণ করতেই দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র বণ্টন ও রফতানিক্ষমতা বাড়ানো, আঞ্চলিক নির্মাতাদের জন্য আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নেয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং প্রতিবেশীদের মতো প্রতিযোগিতামূলক ট্যাক্স ইনসেনটিভ (আর্থিক ছাড়) চালুর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এ কারণে ২০২৮ সালের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখন থেকেই ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করছে ইন্দোনেশিয়া। এবারের কান উৎসবে দেশটির প্রধান আকর্ষণ ‘নেক্সট স্টেপ স্টুডিও ইন্দোনেশিয়া’, যা মূলত তরুণ নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক কো-প্রডাকশনের জন্য তৈরি করার একটি ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম। এটি ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল সহযোগিতা ঘোষণা’র অংশ। এছাড়া ফ্রান্সের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান ‘লা ফেমিস ও সিএনসি এবং নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় কো-প্রডাকশন স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছে তারা।
১৭ হাজার দ্বীপের গল্প যাবে বিশ্বমঞ্চে
ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী ফাদলি জোন মনে করেন, সিনেমা শুধু রাজধানী জাকার্তাকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। ইন্দোনেশিয়ায় ১ হাজার ৩৪০টি জাতিগোষ্ঠী, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ এবং ৭১৮টি স্থানীয় ভাষা রয়েছে। দেশটি বিশ্বের মোট ভাষাগত ঐতিহ্যের প্রায় ১০ শতাংশ। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমার গল্প যত বেশি খাঁটি ও স্থানীয় হবে, আন্তর্জাতিকভাবে সেটি মানুষের মনে তত বেশি ইউনিভার্সাল বা বৈশ্বিক আবেদন তৈরি করবে।’ তিনি জানান, বর্তমান প্রজন্মের ইন্দোনেশীয় নির্মাতারা প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত নানা জটিল বিষয় নিয়ে সততার সঙ্গে সিনেমা বানাচ্ছেন, যা বিশ্ব দরবারে ইন্দোনেশিয়ার কণ্ঠস্বরকে আরো শক্তিশালী করছে।
প্রযুক্তি ও ওটিটি নিয়ে ভাবনা
স্ট্রিমিং বা ওটিটি প্লাটফর্মগুলোকে সিনেমা হলের জন্য হুমকি ভাবছে না ইন্দোনেশিয়া। এটিকে এ শিল্পের সহায়ক মনে করে দেশটি। এমনটাই জানান ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে তিনি কিছুটা সতর্ক। এডিটিং বা সাবটাইটেলের কাজে এআইয়ের দক্ষতাকে স্বাগত জানালেও মানুষের সৃজনশীল মেধা ও শ্রমকে যেন প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন না করতে পারে, সেদিকে লক্ষ রেখে নীতিগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আগামী পাঁচ বছরে ইন্দোনেশিয়ার মূল লক্ষ্য হলো তাদের দেশের সিনেমা ও সিরিজ যেন নিয়মিত বিশ্বের বড় বড় উৎসবে জায়গা পায়। পাশাপাশি বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র নির্মাতা যেন শুটিংয়ের জন্য ইন্দোনেশিয়াকে একটি প্রধান আকর্ষণীয় কেন্দ্র বা ‘প্রডাকশন হাব’ হিসেবে বেছে নেন।
সূত্র: ভ্যারাইটি










