আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে নতুন প্রদর্শনী। ‘পুরান ঢাকা—আখ্যান, রোমন্থন, আগামী ঐতিহ্যের সন্ধানে পুরান ঢাকার অলিগলিতে’ শিরোনামে আয়োজন হচ্ছে প্রদর্শনীটি। এর উদ্বোধন হবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায়।
পুরনো স্থাপনা আর লোকালয়গুলোই দেশজ ইতিহাস আর ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক। যেমনটা আমাদের সবার প্রিয় পুরান ঢাকা, ৪০০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত এক মহা আখ্যান। এ জনবসতির হদিস মেলে আনুমানিক ৭০০ খ্রিস্টাব্দে। বুড়িগঙ্গা তীরের ঢাকা সপ্তদশ শতাব্দীতে হয়ে ওঠে অন্যতম এক নগরী, মোগল সাম্রাজ্যের বাংলা প্রদেশের রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর।
সুবাদার ইসলাম খানের সে রাজধানী উপমহাদেশের ঘটনাবহুল ইতিহাসের এক অন্যতম পটভূমি, অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীর পদচারণায় বর্ণিল সব ঐতিহ্য একে একে জমা হতে থাকে ঢাকার নিজস্ব পলেস্তারায়।
পরীবিবির শেষ শয়নের স্মৃতিচিহ্নবাহী লালবাগের কেল্লা থেকে নবাবদের স্মৃতিবিজড়িত আহসান মঞ্জিলের প্রাঙ্গণে, সুপ্রাচীন বুড়িগঙ্গার অগণিত ঢেউয়ে, বিনত বিবির মসজিদ, খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ কিংবা শায়েস্তা খাঁর মসজিদসহ অসংখ্য মসজিদের সুরেলা আজানের ধ্বনিতে, ফরাশগঞ্জের ফরাসি কুঠির রাস্তার চিরচেনা মসলার ঘ্রাণে, রূপলাল দাসের সাধের ভবনে, বিউটি বোর্ডিংয়ে নির্মলেন্দু গুণ কিংবা শামসুল হকের আলাপচারিতায়, রেবতী বাবুর লজে, ঢাকেশ্বরীর ঢাকে, হোসেনি দালানের তাজিয়া মিছিলের রবে, আরমানিটোলার চার্চে, কার্জন হলে লালে—৪০০ বছরের এ মহানগর ক্রমে হয়ে ওঠে ইতিহাসের এক নিখাদ বিবরণ।
কিন্তু আধুনিকতার চাপে, ক্রমবর্ধমান ঘনবসতির তাগিদে ঢাকাই স্থাপত্য আর ঐতিহ্যের নিদর্শনের অনেকই ইদানীং হারিয়ে যাওয়ার মুখে, এ প্রজন্মের কাছে ঢাকার সে প্রাচীন গৌরবগাথা যেন নিছক রূপকথা হয়ে না দাঁড়ায়, সে তাগিদেই এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ কাজ করার প্রচেষ্টা করছে জন্মলগ্ন থেকেই।
তারই অংশ হিসেবে একদল শিক্ষার্থী, বিগত বছরজুড়ে প্রথিতযশা স্থপতি ও বাংলাদেশের Architectural Heritage and Conservation-এর পুরোধা, স্থাপত্য অনুষদের সম্মানিত ডিন ড. আবু সায়ীদ এম আহমেদের নেতৃত্বে ঘুরে বেড়িয়েছে পুরান ঢাকার অলিগলিতে, অনুসন্ধানী চোখে খুঁজে বের করেছে ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসা স্থাপত্য ঐতিহ্যের অনুষঙ্গদের। সুচারু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কেবল স্থাপত্য নয়, আনুষঙ্গিক লোকালয়ের জীবনযাপন রীতি, পেশা, সুবিধা-অসুবিধার সবিস্তার বিবরণ। এ কার্যক্রমে পুরান ঢাকার প্রধানতম ছয়টি Heritage Trail নির্ধারণ করা হয়, যে route ধরে পর্যটকরা নতুনভাবে অনুধাবন করবে পুরান ঢাকার ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে, যা সঙ্গে সঙ্গে স্থাপত্য ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে বিকশিত হবে এ এলাকার মানুষের ব্যবসায়িক আর পেশাগত কর্মপরিধি। স্থাপত্যের ছাত্রছাত্রীদের সুচিন্তিত আর অনুসন্ধানভিত্তিক এ কর্মযজ্ঞই উঠে আসবে এবারের প্রদর্শনীতে।
প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত। চলবে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।










