ভারতের নতুন আলোচিত সিনেমা লোকা: চ্যাপ্টার ওয়ার—চন্দ্র। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ডমিনিক অরুণ। প্রযোজনা করেছেন মালয়ালম সুপারস্টার দুলকার সালমান। সিনেমাটি মালয়ালম সিনেমার বেশকিছু রেকর্ড ভেঙেছে। লোকা এরই মধ্যে ভারতের বক্স অফিসে আয় করেছে ১০১ কোটি রুপির বেশি। এছাড়া এ সিনেমা নিয়ে দর্শক প্রশংসা করছেন। তাদের প্রশংসার জোরেই দর্শক হলে আসা কমায়নি এবং সিনেমাটি ক্রমাগত আয় করে চলেছে। গত শুক্রবারও এটি ৩ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। একটি আঞ্চলিক সিনেমা ১৫তম দিনেও এ আয় ধরে রাখা প্রশংসার দাবিদার। মূলত সিনেমাটি তার নিজস্বতার জন্যই এত ভালো পারফর্ম করেছে।
লোকা সারা বিশ্ব থেকে আয় করেছে ২০০ কোটি রুপির বেশি। সিনেমার এ সাফল্য সবার মনেই প্রশ্ন তৈরি করেছে যে লোকায় এমন কী আছে, যার জন্য এত নামডাক? এর উত্তর আসলে পাওয়া যায় লোকার মধ্যেই। ডমিনিক অরুণের লোকা মূলত সুপারন্যাচারাল ফ্যান্টাসি সিনেমা। এটি একটি সুপারহিরো ইউনিভার্সের সূচনা করেছে। লোকা নারীকেন্দ্রিক সুপারহিরো গল্প। সিনেমায় কল্যাণী প্রিয়দর্শন অভিনীত চন্দ্র একজন শক্তিশালী, স্বাধীন নারী চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে।

ওয়েফেয়ার ফিল্মস প্রযোজিত লোকায় চন্দ্রের সঙ্গে রয়েছে সানি। নাসলেন গফুর অভিনয় করেছেন এ চরিত্রে। গল্পে দেখা যায়, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর নচিয়াপ্পা (স্যান্ডি) ও এক অঙ্গ পাচার চক্র তাদের শত্রু। চন্দ্রের সহযোদ্ধাদের ভূমিকায় রয়েছেন থোভিনো থমাস, দুলকার সালমান ও সানি ওয়েন।
লোকা নিয়ে দর্শকের আগ্রহের অন্যতম জায়গা এর মাধ্যমে প্রথম মালয়ালি নারী সুপারহিরো পেয়েছেন তারা। চন্দ্র নিজেই একজন পরিপূর্ণ নায়িকা। নিজ গুণ ও শক্তির ওপর নির্ভর করে সে শত্রুদের হারিয়ে দেয়।
সিনেমাটি প্রশংসা পাওয়ার দ্বিতীয় কারণ, এতে স্থানীয় লোককথাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গল্প সাজাতে স্থানীয় লোককথার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। চন্দ্রের অতীত জড়িয়ে আছে ভারতীয় লোককথা, ভয়ংকর আত্মা ও অধিকারহীনতার ইতিহাসের সঙ্গে। অন্য চরিত্ররাও স্থানীয় পৌরাণিক দানব হলেও এখানে তারা আধুনিক, মানবিক রূপে উপস্থিত।
পাশাপাশি সিনেমায় একটি রাজনৈতিক ব্যঞ্জনাও আছে। এক রহস্যময় ভাইরাসের কারণে কিছু মানুষ অতিমানবীয় শক্তি পায়। সে শক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী মানুষের কাছে গেলে কী পরিণতি হয়, সিনেমায় তা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থার তুলনা করেছেন অনেক সমালোচক।
হলিউডের ধারায় নির্মিত হলেও লোকা সম্পূর্ণ মালয়ালি সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত। চন্দ্রর আগমন, সানির সঙ্গে সম্পর্ক, নচিয়াপ্পার মুখোমুখি হওয়া, সব মিলিয়ে একটা নতুন মালয়ালি সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ছবিতে ভবিষ্যতের চরিত্রদের ঝলক ও পোস্ট-ক্রেডিট সিন স্পষ্ট করে দেয় যে আরো অধ্যায় আসছে।
সিনেমায় দর্শক চান বিনোদন। এ সিনেমায় রাজনৈতিক বক্তব্য থাকলেও তা গুরুভার হয়ে ওঠে না। সানি ও তার বন্ধুদের মজাদার সংলাপ, প্রেম ও মজার মুহূর্ত দর্শককে আকৃষ্ট করে। নাসলেনের অভিনয় প্রশংসনীয় আর স্যান্ডি দুর্দান্ত খলনায়ক। থোভিনো থমাস ও দুলকার সালমানের উপস্থিতি সিনেমাটিকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে।
মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে সুপারহিরো সিনেমা একেবারে নতুন নয়। এর আগে থোভিনো থমাসকে নিয়ে বেসিল জোসেফ নির্মাণ করেছিলেন মিন্নাল মুরালি। সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল হওয়ার পাশাপাশি প্রশংসা পেয়েছিল। তবে লোকা সেসব ছাড়িয়ে গেছে। এ সিনেমা যে সাফল্য পেয়েছে তা মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির জন্য নতুন বার্তা। দুলকার ঝুঁকি নিয়ে যে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন, তার সাফল্য এখন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। সুপারহিরো সিনেমার পাশাপাশি মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি নতুন ধারার আরো সিনেমা নির্মাণের কথা চিন্তা করবে। লোকার সাফল্য এখানেই।










