মেলোডিয়াস কণ্ঠ, ভিন্ন মাত্রার সুর দিয়ে এরই মধ্যে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। মৌলিক গান প্রকাশের পাশাপাশি কাজ করছেন নতুন নতুন সংগীত ভাবনায়। সংগীতযাত্রা, বর্তমান কাজ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেন সাইফ শুভ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
এ মুহূর্তে আপনার সংগীত ক্যারিয়ারে কোন কাজগুলোয় সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন?
বর্তমানে আমি পুরো মনোযোগ দিচ্ছি নতুন গান তৈরির দিকে। শুধু গান তৈরি নয়—সুর, লিরিক, সংগীতায়োজন—সব ক্ষেত্রেই আমি ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে থাকি। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি গানে শিল্পীর আত্মা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে স্টেজ শোও আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মঞ্চই এমন জায়গা, যেখানে একজন শিল্পী সরাসরি তার শ্রোতার চোখে চোখ রেখে গান গাইতে পারে এবং অনুভূতি ভাগাভাগি করতে পারে।
নতুন গান বাছাই করার সময় আপনি মূলত কোন বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন—সুর, লিরিক নাকি শ্রোতার চাহিদা?
আমার জন্য গান বাছাই প্রক্রিয়া এক ধরনের হৃদয়ের সিদ্ধান্ত বলতে পারেন। নতুন গান বাছায়ের ক্ষেত্রে আমি প্রথমেই দেখি, গানের সুর আমাকে কতটা স্পর্শ করছে। এরপর আসে লিরিক—আমি এমন লিরিক পছন্দ করি, যেটা শ্রোতার মনে দাগ কাটতে পারে। শেষে ভাবি শ্রোতার পছন্দ নিয়ে। আমি চাই, আমার গান যেন আমাদের বাংলা গানের পরিপূর্ণ শিল্পমান বজায় রাখে, আবার সব ধরনের শ্রোতার মনেও জায়গা করে নেয়।
রেকর্ডিং বা প্রডাকশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ কোনটি মনে হয় আপনার কাছে?
আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতিটি গান রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গানের কথা ও সুরের প্রত্যেকটি লাইনে সঠিক আবেগ ফুটিয়ে তোলা। আজকাল প্রযুক্তি দিয়ে সুরের বা স্বরের শুদ্ধতা ঠিক করা যায়, কিন্তু কণ্ঠের অনুভূতি ও গায়কীর মাধুর্য ঠিক করা বা যোগ করার কোনো মেশিন নেই। তাই রেকর্ডিংয়ের সময় আমি নিজেকে গানের ভেতর পুরোপুরি ডুবিয়ে দিই এবং আমার সবটুকু দিয়েই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করি।
আপনি যে ঘরানার গান করেন, তা তরুণ শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম বলে মনে করেন?
অবশ্যই। সঠিক উপস্থাপনা থাকলে ফোক বা আধুনিক বাংলা গান তরুণদের কাছেও সমান জনপ্রিয় হতে পারে। এজন্য আমি আমার গানগুলোয় আধুনিক মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট ব্যবহার করি, যাতে মূল সুরের স্বাদ অটুট থাকে এবং নবীন-প্রবীণ সব ধরনের শ্রোতার সঙ্গে আমার গান সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
আপনার ঘরানা থেকে সরে গিয়ে কখনো অন্য কোনো ঘরানায় গান করার চেষ্টা করেছেন? করলে সেটি কেমন ধরনের গান ছিল?
হ্যাঁ, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পপ, ফিউশন ও এক্সপেরিমেন্টাল ঘরানায় কাজ করেছি। কিছু গান লোকসুরে হলেও অ্যারেঞ্জমেন্টে ছিল ট্রেডিশনাল অ্যাকোস্টিক এবং ইলেকট্রনিক ও আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার। শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল দারুণ। উক্ত বিষয়গুলো আমার জন্যও নতুন কিছু শেখার এবং গতানুগতিক ঘরানার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।
আপনার আসন্ন গান নিয়ে যদি জানাতেন।
আমার পরবর্তী প্রজেক্ট কিছু মৌলিক গান, যেখানে ফোক ও আধুনিক সংগীতের সুন্দর মিশ্রণ থাকবে। সম্প্রতি একটি দেশের গানে কণ্ঠ দিয়েছি। গানটির মিক্স-মাস্টারিং ও ভিডিও শুটিং এ মাসেই শেষ হওয়ার কথা। আশা করি, এটি আসছে ডিসেম্বরেই প্রকাশ করতে পারব। এছাড়া আরো কিছু মৌলিক গানের কাজ চলমান, যার মধ্যে কয়েকটি গান এ বছর এবং বাকি গানগুলো আগামী বছর আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেই প্রকাশ পাবে বলে আশা করছি।
ভবিষ্যতে কোন ধরনের গান বা ঘরানায় নতুন অভিজ্ঞতা বা পরীক্ষা করতে চান?
আমার স্বপ্ন, ওয়ার্ল্ড মিউজিকে বাংলা ফোক ফিউশন ঘরানায় বড় পরিসরে কাজ করা। আমি চাই, বাংলার লোকসুরকে আন্তর্জাতিক মিউজিক স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে এমন কিছু তৈরি করতে, যা বিশ্বমঞ্চে আমাদের বাংলা গানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আমার লক্ষ্য, বাংলা গান যেন শুধু আমাদের নয়—পুরো বিশ্বের শ্রোতার মন জয় করে নেয়।










