হলিউডের অন্যতম সম্ভাবনাময় অভিনেতা গ্লেন পাওয়েল। তিনি হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতাই কেবল নন, তিনি এখন হলিউডকে উপস্থাপন করেন। এ অভিনেতা ‘এনিওয়ান বাট ইউ’, ‘টুইস্টারস’-এর মতো বক্স অফিস হিটে অভিনয় করেছেন এবং এখন তার প্রথম অ্যাকশন হিরো সিনেমা ‘দ্য রানিং ম্যান’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। এটি পরিচালনা করেছেন এডগার রাইট এবং মুক্তি পাবে আগামী ১৪ নভেম্বর।

এ অ্যাকশন হিরো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার জন্য পরামর্শ নিয়েছিলেন তার মেন্টর ও ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’-এর সহ-অভিনেতা টম ক্রুজের কাছ থেকে।

পাওয়েল বলেন, ‘আমি জানতাম স্টিফেন কিংয়ের বই অনুসারে আমার চরিত্র বেন রিচার্ডস যুদ্ধের ট্যাঙ্কের মতো চরিত্র। আমি বুঝতে পারি, আমাকে একটু যেন অস্ত্রের মতো হতে হবে। এজন্যই আমি এত কঠিনভাবে ট্রেনিং নিয়েছি। প্রচুর পেশি গড়েছি—একাংশ ছিল কার্যকরী, যাতে মার খেতে পারি, আবার অনেকটাই ছিল দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে। আমি বুঝতে পারলাম, এটা শুধু একটা সিনেমা নয়—আমি যেন একজন হাই-পারফরম্যান্স অ্যাথলিট। আর আমার সৌভাগ্য যে টমের মতো কেউ আছেন যাকে আমি ফোন দিয়ে বলতে পারি, এই চরিত্রে বাঁচতে হলে কী করতে হবে?’

সম্প্রতি তিনি আরেক অভিনেতা ক্রিস প্র্যাটকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাওয়েল মনে করেন, প্র্যাটই পরোক্ষভাবে তাকে একজন সত্যিকারের সিনেমা তারকায় পরিণত করেছেন। পাওয়েলের মতে, মার্ভেলের গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি সিনেমায় ক্রিস প্র্যাটের চরিত্রটি তাকে সাহায্য করেছে। এ সিনেমার মধ্য দিয়েই হলিউডের দর্শক তুলনামূলক প্রাণবন্ত পুরুষ চরিত্রদের গ্রহণ করতে শুরু করে।

গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সির প্রথম সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল ২০১৪ সালে। একই বছর গ্লেন পাওয়েল একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অ্যাকশন মুভি দি এক্সপ্যান্ডেবলসে। তখন তিনি বহু বছর ধরে হলিউডে বড় সুযোগের জন্য লড়াই করছিলেন। জিকিউ ম্যাগাজিনের নতুন কভার স্টোরিতে তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি তখন এমন অভিনেতাদের প্রাধান্য দিত যারা ছিলেন “‍গম্ভীর বা রাশভারী”।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্রিশ্চিয়ান বেল ও ‘টোয়াইলাইট’ যুগের রবার্ট প্যাটিনসনের নাম করেন। আর সেখানেই পিছিয়ে পড়ছিলেন পাওয়েল। কিন্তু প্র্যাট সেই ধারা বদলে দিলেন।

পাওয়েল বলেন, ‘আমি মনে করি যখন ক্রিস প্র্যাট গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সিতে অভিনয় করলেন, সেটা অনেক কিছু বদলে দিল। অন্তত এটা দেখিয়ে দিল যে আপনি গম্ভীর বা রাশভারী মেজাজের না হলেও চলবে। তিনি হলিউডের সিনেমায় প্রাণবন্ত পুরুষ চরিত্র এগিয়ে নিয়েছেন। আমি তো ক্রিশ্চিয়ান বেল নই। বেলের একটা মর্যাদা আছে, প্যাটিনসনেরও ছিল নিজস্ব একটা ব্যাপার। আর প্র্যাট যখন এসে এমন কিছু করলেন যেগুলো একটু বেশি হাস্যরসপূর্ণ ও প্রাণবন্ত, তখনই আমি মনে করলাম, এ জায়গাটাই আমার জায়গা। আমার মনে হয়, হলিউডে এই স্বাদের একজন দরকার এবং এ স্বাদটা সবাই দিতে পারে না।’

সূত্র: জিকিউ ম্যাগাজিন