পরিচালনা করেছেন কাজী আসাদ। একটা নিরেট গল্প আছে সিনেমায়। গন্তব্য থাকলেও গল্পটা মূলত যাত্রার। আর তার জন্য শুটিংয়ের সময় অভিনেতা অভিনেত্রীরাও একটা যাত্রার মধ্যেই ছিলেন। তারা দুর্গম মেঠোপথ পার করে এই গল্পটা নিয়ে এসেছেন। মূল গল্পটাও এরকমই—দীর্ঘ দুর্গম যাত্রার।
গ্ল্যামার ভেঙে নতুন রূপে মিম
পর্দায় গ্ল্যামারাস বিদ্যা সিনহা মিমকে দর্শক বহুবার দেখেছেন। লাইফলাইনে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সাদামাটা মিমকে। বাবা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, এ অবস্থায় মেয়ে ছুটে গেছে জোঁকের চর নামক এক দুর্গম ও ডাকাতপ্রবণ গ্রামে। বাবার প্রতি ভালোবাসা এবং এক অচেনা অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক বোধের যে সূক্ষ্ম সীমারেখা, তিনি তা নিখুঁতভাবে বজায় রেখেছেন লাইফ লাইনে।
সম্প্রতি ফিল্মটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে মিম বলেন, ‘সিনেমার গল্পের সঙ্গে আমার বাস্তব জীবনের এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। এখানে যা দেখানো হয়েছে, আমার জীবনটাও তেমনই। আমি আমার মা-বাবার সঙ্গে খুব বেশি কানেক্টেড। তাদের এখন বয়স হচ্ছে, ফলে প্রায়ই মা কিংবা বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এখন এমন একটা অবস্থা যে আমাকেও অনন্যা চরিত্রের মতো একই জার্নিতেই থাকতে হয়।’
পর্দায় নতুন-পুরনোর কেমিস্ট্রি
ওয়েবফিল্মটিতে মিমের সহযোগী হিসেবে ‘কুরবান’ নামের এক বাইক রাইডারের চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছেন রেজওয়ান পারভেজ। সিনেমায় নিজের চরিত্র ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেতা রেজওয়ান পারভেজ বলেন, ‘আমার চরিত্রের নাম কুরবান। পেশায় একজন বাইক রাইডার। সিনেমাটির শুটিং হয়েছে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। রাস্তাঘাট ছিল বেশ দুর্গম। এমন রাস্তায় আমরা সাধারণত চলাচল করে অভ্যস্ত নই। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে টানা কয়েক দিন রাস্তায় শুটিং করতে হয়েছে।’
সহশিল্পী মিমের প্রশংসা করে রেজওয়ান যোগ করেন, ‘মিমের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম কাজ। সহশিল্পী হিসেবে সে ভীষণ সহযোগী। এ তীব্র গরম আর কড়া রোদে শুটিং করাটা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু পুরো টিম এবং সহশিল্পী মিমের দারুণ সহযোগিতার কারণে সে কষ্ট আর গায়ে লাগেনি। মিম আমাকে প্রতিটি দৃশ্যে দারুণভাবে সাপোর্ট করেছে। এত কষ্টের পর এখন যখন দর্শক সিনেমা এবং আমার চরিত্রটি পছন্দ করছেন, তখন পেছনের সব কষ্ট এক নিমেষেই ম্লান হয়ে গেছে।’
সিনেমাটির নির্মাণ ভাবনা নিয়ে পরিচালক কাজী আসাদ বলেন, ‘রেজওয়ান পারভেজ ও বিদ্যা সিনহা মিমের কাস্টিংয়ের বিষয়টি স্ক্রিপ্ট লেখার সময় থেকেই আমাদের ভাবনায় ছিল। আমরা মূলত নতুন আর পুরনোর মধ্যে একটা চমৎকার কেমিস্ট্রি তৈরি করতে চেয়েছিলাম।’
ঢাকার বাইরে কেন এ দুর্গম শুটিং?
শুটিংয়ের লোকেশনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে মিম জানান, প্রথমে তিনি ঢাকার আশপাশে শুট করার কথা বললেও পরিচালক চরের লোকেশনেই অনড় ছিলেন। মিম বলেন, ‘গাড়ি যাওয়ার পরে দেখা যেত আর রাস্তা নেই, বাইক বা ভ্যানে করে যেতে হতো। কিন্তু লোকেশনে পৌঁছানোর পর আমি আসাদ ভাইকে বললাম, আমাদের গল্পের জন্য এ রকমই একটা লোকেশন দরকার ছিল।’
সিনেমাটির ভাবনা নিয়ে পরিচালক কাজী আসাদ বলেন, ‘রেজওয়ান পারভেজ ও বিদ্যা সিনহা মিমের কাস্টিংয়ের বিষয়টি স্ক্রিপ্ট লেখার সময় থেকেই আমাদের ভাবনায় ছিল। আমরা মূলত নতুন আর পুরনোর মধ্যে একটা চমৎকার কেমিস্ট্রি তৈরি করতে চেয়েছিলাম।’
লোকেশন ও শুটিংয়ের চ্যালেঞ্জ
গল্পের প্রয়োজনে সিনেমাটির লোকেশন নির্বাচন করা হয়। পরিচালক বলেন, ‘গল্পটাই এমন ছিল যে একটি মেয়ে একদম প্রত্যন্ত এক চরাঞ্চলে যাচ্ছে, যেখানে কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই এবং বাইক ছাড়া অন্য কোনো বাহন চলে না। সেখানে সে একজনকে খুঁজতে যাচ্ছে। তাই গল্প ও স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনেই ঢাকার আশপাশে শুটিং না করে আমাদের এমন প্রত্যন্ত জায়গায় যেতে হয়েছে, যেন পর্দায় পুরো বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।’
শুটিংয়ের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ চরাঞ্চলে শুটিং করার পেছনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রচুর বাইক রাইডিংয়ের দৃশ্য ছিল। আর চরের যে ধরনের রাস্তা, সেখানে বাইকের শুট করা ছিল বেশ কঠিন। তার ওপর ছিল প্রচণ্ড রোদ। আসলে সিনেমা এমন একটি মাধ্যম, যেখানে নিজের দেশকে সুন্দরভাবে দেখানোর একটা বড় সুযোগ থাকে। আমি সবসময়ই সুন্দর লোকেশন নির্বাচন করার চেষ্টা করি, কারণ আমার সব কাজেই বাংলাদেশকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই।’










