ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পপি। নব্বইয়ের দশকে অভিষেকের পর থেকে একের পর এক হিট সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন দর্শকের হৃদয়ে। রূপ, অভিনয় ও ভিন্নধর্মী চরিত্রের কারণে দীর্ঘদিন তিনি ঢালিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

গুণী নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে পপির চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। চিত্রনায়ক ওমর সানীর বিপরীতে অভিনীত এ সিনেমায়ই সাড়া ফেলেন তিনি। সিনেমাটির জনপ্রিয় গান ‘আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটারে’ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম সিনেমায়ই তার অভিনয় ও গ্ল্যামার দর্শক-সমালোচকের নজর কাড়ে এবং তাকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

এরপর পপি একে একে উপহার দেন বহু দর্শকপ্রিয় সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে ‘দরদী সন্তান’, ‘চারিদিকে শত্রু’, ‘অন্যায় আবদার’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘মনের মিলন’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘প্রাণের প্রিয়তমা’, ‘পাহারাদার’, ‘কারাগার’, ‘লাল বাদশা’, ‘দুজন দুজনার’, ‘মা যখন বিচারক’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘জীবন মানেই যুদ্ধ’, ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’ প্রভৃতি।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালে ‘কারাগার’ সিনেমায় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পরে ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ সিনেমায়। এছাড়া তার অভিনীত ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ সিনেমার কাজও আবার শুরু হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

বর্তমানে পপি অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও স্বামী আদনান ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়ে সংসারজীবনেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

আজ তার জন্মদিন। এ উপলক্ষে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পপি বলেন, ‘সিনেমায় কাজ করার সময় জন্মদিন ছিল উৎসবের মতো। প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা, ভক্তদের ফোন, ফুল, কেক পাঠানো—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠত বিশেষ। কখনো শুটিং সেটেও জন্মদিন পালন করেছি। ফ্যান ক্লাবগুলো দেশজুড়ে নানা আয়োজন করত। এখন জন্মদিন ঘরোয়াভাবে কাটাচ্ছি।’

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন পপি। তিনি বলেন, ‘পরিবারের দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে, তবে নিজের অবস্থান শক্ত না করে সবকিছু বিলিয়ে দেয়া উচিত নয়। নইলে পরে দোষারোপ সহ্য করতে হয়। একসময় মনে করতাম পরিবারই আমার সব, কিন্তু দেখেছি তারাই আমাকে শূন্য করে দিয়েছে। তখন চলচ্চিত্র পরিবারের মানুষই পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার স্বামী আদনান আমার জীবনের সেরা বন্ধু, সে আমাকে আগলে রেখেছে, সাহস দিয়েছে।’