সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা আহমেদ হাসান সানি। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে হাত পাকিয়ে এবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে তার। মুক্তির অপেক্ষায় তার নির্মিত সিনেমা এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি। নীরবে ও পরিকল্পিতভাবে সিনেমাটির কাজ শেষ করেছেন তিনি। এ সিনেমা, নিজের সংগীত ক্যারিয়ার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

আপনার আসন্ন সিনেমা ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’-এর গল্প ভাবনার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল? কোনো বিশেষ ঘটনা বা অভিজ্ঞতা কি এর পেছনে কাজ করেছে?

সিনেমার ভাবনাটা শুরু হয়েছে গল্পকার ও প্রডিউসার খালিদ মাহবুব তুর্যের কাছ থেকে। তিনি একদিন এসে সিনেমার গল্পটা আমাদের শোনান। তখন মাত্র ২০২৪ সাল শেষ হয়েছে। আমরা সবাই তখন ভাবছিলাম আমাদের দেশে ভালো ভালো জিনিস হবে, দেশে অনেক পরিবর্তন আসবে। সে সময় আমাদের মনে হয়েছে আমাদের দেশের বাস্তবতা ও সিনেমার রিপ্রেজেন্টেশনের জন্য এ ধরনের গল্প বলা খুবই জরুরি। তখনই মনে হয়েছে গল্পটা নিয়ে সিনেমা করা যায়।

একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পরিচালনায়ও আছেন—এ দুই দিকে কাজ করার ইচ্ছা কীভাবে গড়ে উঠল?

আমি ফিল্ম আর সংগীত—একসঙ্গে কাজ করে আসার পাশাপাশি অনেক দিন ধরেই বিজ্ঞাপন নির্মাণ করছি। গানের পাশাপাশি সবসময় একজন ফিল্মমেকার হতে চেয়েছি। তবে মিউজিকটা সামনে চলে এসেছে আগে। আসলে আমার সিনেমা আর সংগীত দুটোর প্রতিই আগ্রহ ও ভালোবাসা অনেক আগে থেকেই।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক গল্প বলা যথেষ্ট সংবেদনশীল। এ ঝুঁকি নিয়েও কিভাবে সিনেমাটির কাজ শেষ করলেন?

সে কারণেই আমরা সিনেমার ঐতিহাসিক বিষয়গুলোয় খুব সতর্ক থেকেছি। গল্পের সঙ্গে যুক্ত সবাই যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা করেছেন। সিনেমার গল্পকার ও চিত্রনাট্যকারও দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছেন। ঐতিহাসিক কোনো তথ্য যেন ভুল না হয়, সে বিষয়ে সবাই সচেতন ছিলেন। শুটিংয়ের সময়ও আমরা খুব সংবেদনশীলতা নিয়ে সবকিছু ডিল করেছি।

সিনেমা নির্মাণের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি কী ছিল?

যেকোনো সিনেমা বানানোই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকটা আর্মির মতো সব সেক্টরকে একসঙ্গে ইন কমান্ডে থাকতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং চলে। আমাদের সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগও ছিল। আমরা যখন শুট করছিলাম, তখন উপকূলে ঝড় হচ্ছিল। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তো ছিলই।

ইমতিয়াজ বর্ষণের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

বর্ষণ ভাই একজন অসাধারণ অভিনেতা। তিনি সিনেমাটিতে তার চরিত্রটি পুরোপুরি ধারণ করতে পেরেছেন। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ।

একজন গায়ক ও গীতিকার হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা কি পরিচালক হিসেবে আপনাকে আলাদা কোনো সুবিধা দিয়েছে?

এটা আসলে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে আমি যখন যা করি, সেটা মন দিয়ে উপভোগ করি। হয়তো সে জায়গাটা আমাকে সাহায্য করে।

ভবিষ্যতেও কি আপনি রাজনৈতিক বা সামাজিক গল্প নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চান?

সামনে আমি সরাসরি রাজনৈতিক গল্প বলতে চাই কিনা, সেটা এখনই বলা কঠিন। তবে আমার বিশ্বাস, যেকোনো গল্পের চরিত্রই এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। কুলিমজুর থেকে শুরু করে করপোরেট ব্যবসায়ী সবাই কোনো না কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতির অংশ। আলাদা করে রাজনৈতিক গল্প বলব কিনা জানি না, তবে এটুকু বলতে পারি যেকোনো গল্পই রাজনৈতিক।

সামনে কি আরো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা ভিন্ন ঘরানার কাজের পরিকল্পনা রয়েছে?

সামনে আরেকটি সিনেমার ভাবনা শুরু হয়েছে। এটি সবদিক থেকেই ভিন্ন ধরনের। সবকিছু ঠিকঠাক হলে সময়মতো জানাব।

গান নিয়ে আপনার আগামী পরিকল্পনা কী?

গান নিয়ে আমার সামনে বড় চমক আছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সবাই জানতে পারবে। এ বিষয়ে আমি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট সাইন করেছি, তাই এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলতে পারছি না।