বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে (আইজিসিসি) মোহাম্মদ রফির স্মরণে ‘মিউজিক্যাল ইভনিং’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী ও সংগীতপ্রেমীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী মোহাম্মদ রফির জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রফির বাবা চেয়েছিলেন তিনি পারিবারিক পেশা অনুসরণ করুন। কিন্তু ছোটবেলায় এক ফকিরের গান শুনে তার সংগীতের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। পরে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কুন্দনলাল সায়গলের একটি অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। সেই পরিবেশনাই তার অসাধারণ প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরে এবং ভবিষ্যৎ সংগীতজীবনের পথ খুলে দেয়।’
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘মোহাম্মদ রফির আরেকটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি যেসব অভিনেতার জন্য গান গেয়েছেন, তাদের পর্দার চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে নিজের কণ্ঠের উপস্থাপনা বদলে নিতে পারতেন। এ কারণেই তার গান কয়েক দশক পরও সমান জনপ্রিয়।’
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ রফি ভজনও গেয়েছেন। এটিই শুধু ভারতের নয়, পুরো উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সংগীত সম্পূর্ণভাবে সীমানার ঊর্ধ্বে। সংগীতের কোনো সীমানা নেই, কোনো জাতি নেই, ধর্ম নেই, কোনো বর্ণ নেই।’
সংগীতসন্ধ্যায় ভারতের শিল্পী প্রিয়ংবদা ব্যানার্জী ও বাংলাদেশের শিল্পী মোহাম্মদ রাশেদ উদ্দিনের পরিবেশনায় রফির জনপ্রিয় গানসহ শাস্ত্রীয় ও আধুনিক ধারার একাধিক সংগীত পরিবেশিত হয়। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মোহাম্মদ রফির কালজয়ী গানের আবহে স্মৃতিময় একটি সন্ধ্যা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন) গোকুল ভিকেসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীদের স্মরণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সংগীতসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। মোহাম্মদ রফির সংগীত উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং দুই দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।










