দেশের বাইরেও সিনেমাটি পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতিকে। এবার তিনি নিয়ে এসেছেন ‘মাস্তুল’। জাহাজের মানুষের জীবন নিয়ে এ সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে আজ। মাস্তুল নির্মাণ, চলচ্চিত্র যাত্রা ও চলচ্চিত্র দর্শন নিয়ে নির্মাতার কথা হয়েছে বণিক বার্তার সঙ্গে। গল্প শুনেছেন মাহমুদুর রহমান।
মাস্তুল নির্মাণের গল্পটা জানতে চাই
মাস্তুলের শুরুটা আসলে অ্যাকসিডেন্টাল। একটা গল্প নিয়ে আমি কাজ করছিলাম তখন। প্রি-প্রডাকশনের কাজও প্রায় শেষ। ক্যামেরা, লেন্সও কেনা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যাকে নিয়ে কাজ করব, সে ব্যক্তি হুট করে গায়েব হয়ে গেল। তখন একদিন আমি আর যুবরাজ শামীম (নির্মাতা) নদীর পাড়ে বসে ছিলাম। হঠাৎ তখন মনে হলো একটা সিনেমা হয়নি, কিন্তু আমাদের কিছু লজিস্টিকস রেডি, তাহলে অন্য একটা সিনেমা কেন বানাই না? আমরা একটা চ্যালেঞ্জ নিলাম, যেখানে বসে আছি সে চেনা জায়গার গল্প নিয়ে সিনেমাটা বানাব।
তারপর গল্প ভাবা, কাস্টিং এসব কীভাবে এগোল?
আমার বেড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জে। ওই জায়গা, ওখানকার মানুষ, পরিবেশ, গল্প, প্রবণতা সবকিছুর সঙ্গেই আমি পরিচিত। তাই গল্পটা দাঁড় করাতে সমস্যা হয়নি। এক মাসের মধ্যে আমরা মূল কাজে চলে যাই। ইচ্ছা ছিল আমাদের নিয়মিত অভিনেতাদের না নিয়ে অপেশাদারদের দিয়ে কাজটা করব। আমি এটা পছন্দ করি। কেননা তাদের থেকে র’ অভিব্যক্তি, সংলাপ নিয়ে আসা যায়। কিন্তু চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করার পর মনে হলো, প্রধান চরিত্রটা (ফজলুর রহমান বাবু অভিনীত) আসলে অপেশাদার কাউকে দিয়ে হবে না। এরপর বাবু ভাইয়ের কাছে যাই। চিত্রনাট্য দিই। উনি দুদিন সময় নেন। তখন আমাকে কেউ চেনেও না...

এটা কোন সময়ের কথা?
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের স্বপ্নজাল (২০১৮) মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পরের কথা। স্বপ্নজাল দেখেই আমার বাবু ভাইয়ের কথা মনে হয়েছিল। দুদিন পর উনিই আমাকে ফোন করেন। বাবু ভাই যুক্ত হন। কিন্তু একটা বিষয় হলো, আমি তখনো কোনো কাজ করিনি। একজন পেশাদার অভিনেতার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় সেটাও জানি না। এ অবস্থায় আমার বন্ধু সিনেমাটোগ্রাফার আরিফুজ্জামানকে সিনেমায় যুক্ত করি। সে বিবিসির প্রডাকশনে ছিল। ও আসার পর আমাদের পুরো কাজের মধ্যে একটা পেশাদারি ব্যাপার চলে আসে।
শুটিংয়ের পুরো সময়ে বেশ কয়েকটা বিরতি নিতে হয়েছিল?
হ্যাঁ। তা হয়েছিল। কভিড এল। তবে তার আগে কাস্টিং নিয়ে আরেকটু বলি। জাহাজের গল্প তো, জাহাজে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ থাকে। বিভিন্ন ডায়ালেক্টে কথা বলে। কাস্টিংয়ে এসব বিষয় মাথায় রাখতে চেয়েছিলাম। আবার বাবু ভাই যখন যুক্ত হলেন, তার সঙ্গে তাল মেলানোর মতো অভিনেতা প্রয়োজন হবে। এ সবকিছু মাথায় রেখে খোঁজ চলল। দীপক সুমন এলেন। তার ছবি দেখে আমার মনে হয়েছিল তিনি হতে পারেন। আমিনুর রহমান মুকুল ভাই, থিয়েটারের মানুষ। ওনার যুক্ত হওয়া একটা রিলিফ ছিল।
২০১৯ সালের মার্চে শুটিং শুরু করি। এমন একটা সময় ধরতে চাচ্ছিলাম, যখন কুয়াশা কম থাকে, ঝড়বৃষ্টিও থাকে না। কিছুদিনের মধ্যে আবহাওয়া বদলে গেল। তাই কাজ বন্ধ করে দিলাম। পরের বছর আবার মার্চে কাজ শুরু করলাম। কিন্তু এসে গেল কভিড। সময় গড়াচ্ছিল। অভিনেতারা অনেকে লুক বদলেছেন তাদের অন্য কাজের জন্য। এসব পার করে ২০২২ সালে শুটিং শেষ করলাম। ২৪ সালে মুক্তি দেয়ার ইচ্ছা ছিল। পরে আবার ২৫ সালের কথাও ভাবি। কিন্তু সে সময়ও মনে হচ্ছিল সিনেমার বাজার চাঙ্গা হয়নি। তাই এ সময়ে ফেস্টিভ্যালগুলোয় পাঠাই।
বিদেশী ফেস্টিভ্যালগুলোর ক্ষেত্রে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? আপনাদের কেমন অভ্যর্থনা করল? বাংলাদেশের সিনেমা এখন তারা কী দৃষ্টিতে দেখে?
সত্যি বলতে এখন বাংলাদেশের সিনেমার গুডউইল খুবই ভালো। একটা সময় ছিল যখন হয়তো বাংলাদেশকে তারা চিনত না বা সিনেমা সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল না। কিন্তু কভিডের পর সে চিত্রটা একেবারেই বদলে গেছে। মস্কো আর স্পেনে আমি এমন একটা আবহ পেয়েছি যে তারা এটাকে নতুন বাংলাদেশী ওয়েভ মনে করছেন।
মাস্তুল প্রসঙ্গে ফিরি। ফজলুর রহমান বাবু অভিনীত মকবুল চরিত্রের কোনো সংলাপ কেন নেই?
একেবারেই যে ছিল না এমন না। তবে এরপর দেখলাম তার চরিত্র ও গল্পের রহস্যটা ধরে রাখতে সংলাপহীন রাখাই ভালো। প্রথমে কিছু সংলাপ ছিল। এরপর কমেছে এবং কমতে কমতে নেই হয়ে গেছে। তবে এ চরিত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে সংলাপ না থাকাটাই কাজে দিয়েছে।
এরই মধ্যে একাধিক দেশের উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে মাস্তুল। আশা করি বাংলাদেশের দর্শকও পছন্দ করবে। আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে পাঠককে জানাবেন?
দুটো সিনেমার কাজ করছি। তৃতীয় সিনেমার কাজ প্রায় শেষ। চতুর্থটাও শুট করেছি। শুট খুব দ্রুত করি আমি। পরের কাজগুলোয় সময় নিই। আমি নাম বলতে পারছি না, কেননা নাম চূড়ান্ত হয়নি।










