সাইফ আলী খান তখন রোমান্টিক-কমেডি করে যাচ্ছেন। ২০০৫ সালে মুক্তি পেল ‘সালাম নমস্তে’। প্রধান দুই চরিত্রে সাইফ আলী খান ও প্রীতি জিনতা। ছিলেন আরশাদ ওয়ার্সি ও জাভেদ জাফ্রি। এ সিনেমায় এক ট্যাক্সিচালকের চরিত্রে অভিনয় করেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। তিনিই সিনেমার পরিচালক। সিনেমাটি মুক্তি পায় ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ পরিচালনায় সিদ্ধার্থ আনন্দ পূর্ণ করলেন দুই দশক।
সিদ্ধার্থ আনন্দ এখন বেশি পরিচিত অ্যাকশন সিনেমার জন্য। পরিচালক হিসেবে তার ফিল্মোগ্রাফিতে আছে ‘ফাইটার’, ‘পাঠান’ ও ‘ওয়ার’-এর নাম। মূলত তিনি ২০১৪ সালে ‘ব্যাং ব্যাং’ সিনেমা দিয়ে অ্যাকশনে প্রবেশ করেন। কিন্তু তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল রোমান্টিক কমেডি/ড্রামা দিয়ে। সালাম নমস্তের পর ২০০৭ সালে নির্মাণ করেন ‘তা রা রাম পাম’। পরের বছর ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’ ও ২০১৪ সালে রোমান্টিক রোড ড্রামা ‘আনজানা আনজানি’—চারটিই রোমান্টিক।
ক্যারিয়ারের ২০ বছর পূর্ণ করার সময় এখন সিদ্ধার্থ বলিউডের অন্যতম বড় নির্মাতা। এ অর্জনের জন্য তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন যশরাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়াকে। কেননা আদিত্য চোপড়াই তাকে সিনেমা নির্মাণের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। সিদ্ধার্থ জানান যে আদিত্য তাকে অনুপ্রেরণা না দিলে তিনি নির্মাতা হতেন না।
সিদ্ধার্থ বলেন, ‘আমার প্রথম সিনেমা ছিল সালাম নমস্তে। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এ সিনেমার জন্য আমি একটা মানুষকেই ধন্যবাদ দেব। তার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। তিনি আদিত্য চোপড়া। তিনি আমার মধ্যকার সিনেমা পরিচালককে দেখেছিলেন। আমি তখন একজন সহকারী পরিচালক ছিলাম। এরপর ‘‘হাম তুম’’-এ ছিলাম নির্বাহী প্রযোজক, সহযোগী লেখক ও পরিচালক।’
হাম তুম পরিচালনা করেছিলেন কুনাল কোহলি। সিনেমাটির প্রযোজক ছিল যশরাজ ফিল্মস। সে সময়ই সিদ্ধার্থকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন আদিত্য। সিদ্ধার্থ বলেন, ‘নির্বাহী প্রযোজকের কাজটা আমি পছন্দ করেছিলাম। কিন্তু আদিত্য আমাকে বলেছিলেন যে আমার সিনেমা নির্মাণ করা উচিত। আমি যেন এখনই নিজের সিনেমার গল্প লেখা শুরু করি। এর পরের সিনেমাটা আমাকে পরিচালনা করতে হবে। তিনিই আমার মধ্যকার সিনেমা পরিচালককে দেখেছিলেন। আমি দেখতে পাইনি। তাই আমার পরিচালক হওয়ার কৃতিত্ব আদিত্য চোপড়ার।’
এতেই শেষ করেননি সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, ‘আমি আজ যা হয়েছি, তা হতে পেরেছি এ মানুষের কারণে। আমি তার কাছে সবসময়ই কৃতজ্ঞ।’
সিদ্ধার্থের সফল সিনেমাগুলো এসেছে যশরাজ ফিল্মসের হাত ধরেই। ব্যাং ব্যাং এসেছিল ফক্স স্টার স্টুডিওজের ব্যানারে। তবে ২০১৯ সালে ওয়ার পরিচালনা করেন যশরাজের ব্যানারে। সিনেমাটি ব্লকবাস্টার হিট করে এবং এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় যশরাজ স্পাই ইউনিভার্স। এরপর কভিডে সিনেমা থিতিয়ে গেলেও ২০২৩ সালে পাঠান দিয়ে বলিউডের সঙ্গে সিদ্ধার্থ আনন্দেরও কামব্যাক হয়। এরপর ফাইটার মুক্তি পায় ২০২৪ সালে।
সিদ্ধার্থের হাতে এখন আছে সুহানা খান ও শাহরুখ খান অভিনীত ‘কিং’। সিনেমাটি সুজয় ঘোষের পরিচালনা করার কথা থাকলেও শাহরুখ খান ও রেড চিলিজ এ দায়িত্ব দিয়েছেন সিদ্ধার্থকে। ধারণা করা হচ্ছে, আরেকটি ব্লকবাস্টার আসছে সিদ্ধার্থের হাত ধরে।
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা










