হলিউড অভিনেতা ও পরিচালক রবার্ট রেডফোর্ড মারা গেছেন। যার নাম বলিউড চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, পরিবেশকর্মী এবং স্বাধীন সিনেমার পৃষ্ঠপোষক। যিনি আমেরিকান সিনেমায় দুটি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। মঙ্গলবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রোভো শহরে নিজ বাড়িতে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তারকাখ্যাতির সূচনা
রেডফোর্ডের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে ‘বেয়ারফট ইন দ্য পার্ক’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৬৭ সালে এ নাটক সিনেমায় রূপ নিলে তিনি দর্শকের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ষাটের দশকের শেষে, যখন হলিউড সিনেমার খরা চলছিল, ঠিক তখনই রেডফোর্ড সেই নতুন প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করে চাঙ্গা করেছিলেন হলিউড।
১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বুচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সানড্যান্স কিড’ তাকে দর্শকের কাছে সত্যিকারের তারকা বানায়। তবে স্বাধীন সিনেমার জন্য তার সবচেয়ে বড় অবদান আসে সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসব দিয়ে।
বহুমুখী ক্যারিয়ার ও অস্কার সাফল্য
রেডফোর্ড শুধুই অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ১৯৮০ সালে তিনি ‘অর্ডিনারি পিপল’ পরিচালনা করে সেরা পরিচালক হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন। এরপর ‘কুইজ শো’র জন্য আবারো অস্কার মনোনয়ন পান।
অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। ১৯৭৩ সালে ‘দ্য স্টিং’ তাকে এনে দিয়েছিল অস্কারের সেরা অভিনেতার মনোনয়ন। এছাড়া ‘আউট অব আফ্রিকা’তে মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে তার জুটিবদ্ধ অভিনয় সাতটি অস্কার অর্জন করেছিল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষে ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য গান’-এর মাধ্যমে তিনি অভিনয় থেকে অবসর নেন।
রেডফোর্ডের ক্যারিয়ারের ঝুলিতে রয়েছে সম্মানসূচক অস্কার পুরস্কার, এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি গোল্ডেন গ্লোব, একটি বাফটা এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার।
সানড্যান্স: নবীনদের মঞ্চ
রেডফোর্ড স্বাধীন সিনেমার বড় পৃষ্ঠপোষক। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসব শুরু করেন, যা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাধীন চলচ্চিত্র উৎসব। সানড্যান্স শুধু একটি চলচ্চিত্র উৎসব নয়, এটি নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য একটি শেখার প্লাটফর্ম। এখান থেকেই উঠে এসেছেন স্টিভেন সোডারবার্গ, কোয়ান্টিন টারান্টিনো, ওয়েস অ্যান্ডারসন, রায়ান কুগলার, রিয়ান জনসনের মতো বিখ্যাত নির্মাতারা।
আইকনিক চরিত্রের নায়ক
তিনি রোমান্স, থ্রিলার বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ—সব ধাঁচের সিনেমাতেই অন্য সবার থেকে ছিলেন স্বতন্ত্র। রেডফোর্ডের চরিত্রগুলোর গভীরতা, নৈপুণ্য ও সহজে মনে রাখা যায় এমন উপস্থিতি তাকে সত্যিকারের আইকনিক চরিত্রে পরিণত করেছে। তার অভিনয় শুধু পর্দায় নয়, দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বাস করেছে।
আজও আছে সানড্যান্স
শেষ কয়েক বছরে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও রেডফোর্ডের গড়া চলচ্চিত্র উৎসব রয়ে গেছে আজও। স্বাধীন চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বিপ্লব তিনি শুরু করেছিলেন, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
রবার্ট রেডফোর্ড—হলিউডের এমন একজন অভিনেতা, যিনি স্বাধীন সিনেমার পথপ্রদর্শক এবং একটি নতুন প্রজন্মের গল্পকারদের প্রেরণার উৎস।










