গাজায় এখনো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বারবার নানাভাবে তাদের এ সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও তারা থামেনি। সম্প্রতি হলিউডের অনেক অভিনেতা ও নির্মাতা ইসরায়েলি সিনেমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছেন। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন যে সিনেমা প্রতিষ্ঠানগুলোও গণহত্যার অংশীদার।
নির্মাতা ও অভিনেতাদের এ অঙ্গীকারানামায় বলা হয়েছে, ‘চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, চলচ্চিত্র শিল্পের কর্মী ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা উপলব্ধি করি যে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের ক্ষেত্রে সিনেমার একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। এ সংকটময় মুহূর্তে, যেখানে আমাদের অনেক সরকার গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালানোর অনুমোদন দিচ্ছে, সেখানে আমাদের পক্ষে যা কিছু সম্ভব তা করে এ নিষ্ঠুরতার সঙ্গে সহযোগিতাকে থামানো জরুরি।’
অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়োর্গোস ল্যান্থিমোস, আভা ডুভারনে, আসিফ কাপাডিয়া, বুটস রাইলি ও জোশুয়া ওপেনহাইমার; অভিনেতা অলিভিয়া কোলম্যান, মার্ক রুফালো, টিল্ডা সুইন্টন, হাভিয়ের বারদেম, আয়ো এদেবিরি, রিজ আহমেদ, জোশ ও’কনর, সিনথিয়া নিক্সন, জুলি ক্রিস্টি, ইলানা গ্লেজার, রেবেকা হল, আইমি লু উড ও ডেবরা উইঙ্গার। রোববার রাত পর্যন্ত এ অঙ্গীকারনামায় ১ হাজার ২০০ জন স্বাক্ষর করেছেন।
অঙ্গীকারনামাটি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান থেকে প্রচার করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সাংস্কৃতিক বয়কট আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত।
এ অঙ্গীকারে স্বাক্ষরকারীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তারা এমন কোনো প্রতিষ্ঠান যেমন চলচ্চিত্র উৎসব, সিনেমা, সম্প্রচারকারী ও প্রযোজনা সংস্থা—যারা ‘গণহত্যা ও বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দেয়া’ অথবা ‘সে সরকারগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে এবং যারা এ অপরাধ করছে’, তাদের সঙ্গে কাজ করবেন না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আমরা ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি, যারা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র শিল্পকে নীরবতা, বর্ণবাদ ও মানবতাবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও সামর্থ্য দেখাচ্ছে।’
এ অঙ্গীকারনামা প্রকাশ করেছে ফিল্ম ওয়ার্কার্স প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠন। অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরকারী চিত্রনাট্যকার ডেভিড ফার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের বংশধর হিসেবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কার্যকলাপে আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত। তারা কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একটি বর্ণবাদী ব্যবস্থা চালু রেখেছে এবং এখন গাজায় গণহত্যা ও জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আমি চাই না আমার কাজ ইসরায়েলে প্রকাশিত বা পরিবেশিত হোক। দক্ষিণ আফ্রিকায় সাংস্কৃতিক বয়কট আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এবারো তা গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং আমার মতে, সব বিবেকবান শিল্পীর এটি সমর্থন করা উচিত।’
অঙ্গীকারনামার ‘প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন’র উত্তরে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের যেসব প্রতিষ্ঠান গণহত্যায় সমর্থন দেয় বা সরকারের তাঁবেদারি করে তাদের সমান অপরাধী বলে গণ্য করা হবে। এছাড়া ইসরায়েলের চলচ্চিত্র উৎসবও এ বয়কটের মধ্যে পড়বে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










