বিপুল পরিমাণ এ জনগোষ্ঠীকে গ্রিডের আওতায় আনতে পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলায় বিদ্যুতের নেটওয়ার্ক সম্পসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে নেয়া হবে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার ঋণ। ২ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার প্রকল্পের বাকি অর্থ দেবে সরকার ও বিপিডিবি। এরই মধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পের নথি সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য তিন জেলায় বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলা, বান্দরবানের সাতটি এবং খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলা রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ছয়টি নতুন উপকেন্দ্র, পাঁচটি সুইচিং স্টেশন, ২ হাজার ৩৮টি বিতরণ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। এছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার নতুন বৈদ্যুতিক লাইন ও ২ হাজার কিলোমিটার পুরনো বিদ্যুৎ লাইন উন্নয়ন করবে বিপিডিবি।
জানা গেছে, বিপিডিবির বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় পার্বত্য অঞ্চলের নতুন করে ৮৮ হাজার ৫৮৬ গ্রাহককে গ্রিড লাইনের বিদ্যুৎ সেবা দেয়া হবে। বর্তমানে তিন জেলায় বিপিডিবির মোট গ্রাহক রয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭২৩।
পরিকল্পনা কমিশনের পাঠানো প্রকল্পের ডিপিপি থেকে জানা যায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য পার্বত্য তিন জেলার কৃষি, পর্যটন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ওই এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। এর আগে বিপিডিবি পার্বত্য তিন জেলায় বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবির ঋণ ২ হাজার ১৩৫ কোটি, সরকার ৪৪৫ কোটি ও বিপিডিবি ৩৭১ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু করে আগামী ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রকল্পটির এখনো অনুমোদন মেলেনি।

জানা গেছে, প্রকল্পটি নিয়ে গত ২৯ জুন মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। এতে একাধিক বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর ডিপিপি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এডিবির ঋণে প্রকল্পটির ডিপিপি আমাদের কাছে এসেছে। আমরা ক্রয় পরিকল্পনা, রেট শিডিউল, ব্যয় বিভাজন ও বাস্তবায়নের সময়কাল নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছি। কিছু আপত্তিও রয়েছে। সেগুলো সমাধান করে পুনরায় ডিপিপি পাঠানো হলে আমরা সেটা পুনর্বিবেচনা করব। তারপর একনেকে গেলে অনুমোদন হতে পারে।’
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রেমাক্রি ও রাঙ্গামাটির বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন এখনো অন্ধকারের লোকালয়। কয়েক দশক আগে প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নগুলোয় এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসেবা দেয়ার বিষয়টি বার বার বলা হলেও নামমাত্র সৌরবিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎসেবা না পাওয়ায় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না ঠিকমতো।
বিপিডিবির বান্দরবান অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে করা শত শত আবেদন অফিসে পড়ে আছে। বান্দরবান সদর থেকে থানচি উপজেলা পর্যন্ত লাইন গেলেও সড়কের উভয় পাশের অধিকাংশ পাড়ায় কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে তিন্দু ইউনিয়ন পর্যন্ত লাইন স্থাপন করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। মূলত লজিস্টিক সাপোর্ট, জনবল ও যানবাহন না থাকায় এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে যে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে তা পাস হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ এলাকার বিস্তৃতি, সাব-স্টেশন তৈরিসহ অন্যান্য উদ্যোগ নেয়া যাবে বলে মনে করেন বিপিডিবির কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে সংস্থাটির রাঙ্গামাটি সার্কেলের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার মোহন্ত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছানো যায়নি, সেগুলো অনেকটা কাভারেজের আওতায় আসবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।’










