গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান তিনি। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র আজ (গতকাল) বিকাল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি; পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডের সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণ তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি গুরুতর অসুস্থ; হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদ্‌যন্ত্রের বাইপাস সার্জারি হয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব রোগের প্রাদুর্ভাবে এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এ পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি। সংবিধান অনুযায়ী, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার যখন শপথ নেন, শপথেরই অংশে বর্ণিত থাকে, কোনো কারণে যখন স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে, তখন ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসমর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। আমি তার মঙ্গল এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমার মনে হয়, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়ই। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন রাষ্ট্রপতি যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তার সঙ্গে কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট সংযুক্ত রয়েছে কিনা। জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। এর সঙ্গে দেশের ভালো-মন্দও জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এজন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই, যেখানে তিনি নিজেই এটি দাবি করেছেন। সুতরাং আমরা আশা করি এ পদত্যাগের ফলে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কোনো ধরনের বিরূপ মনোভাব কিংবা কনফিউশন যাতে এসব ব্যাপারে না ঘটে।’

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এর আগেও রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন কারণে। তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ারটা কখনো শূন্য থাকে না। আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি, এটাই বাস্তবতা। আশা করি, সব ধরনের কনফিউশন এখন থেকে দূর হয়ে যাবে।’