সুপার সাইক্লোন সিডরের ১৫ বছর আজ। এখনো উপকূলের মানুষ সিডরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সিডরের আঘাতে নিহতদের স্বজনের কান্নাও থামেনি। সিডরের সেই ভয়াবহতা আজও তাড়া করে ফেরে উপকূলের বাসিন্দাদের। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।

সিডর-পরবর্তী উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটবাসীর দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। কিন্তু বেড়িবাঁধ নির্মিত হলেও অপরিকল্পিত স্লুইস গেট স্থানীয়দের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও পরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর।

প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ৯০৮ জন মানুষ মারা যায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে। রাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূল। ভোরের আলো ফুটতে দৃশ্যমান হতে থাকে তাণ্ডবের চিত্র। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় পড়ে পুরো জেলা। স্বজনহারা ও আহতদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে বাগেরহাটের আকাশ-বাতাস।

সরকারি হিসেবে সিডরে বাগেরহাট জেলায় নিহত হয়েছিলেন ৯০৮ জন এবং আহত হয়েছিলেন ১১ হাজার ৪২৮ জন। সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয় ৬৩ হাজার ৬০০ বাড়িঘর। আংশিকভাবে বিধ্বস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় পাকা পাঁচ কিলোমিটার সড়ক, কাঁচা সড়ক ধ্বংস হয় প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকার। আর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার বাঁধ। মারা যায় ১৭ হাজার ৪২৩টি গবাদি পশু। বিনষ্ট হয় ১২ হাজার হেক্টর খেতের ফসল ও ৮ হাজার ৮৮৯ হেক্টর চিংড়ি ঘের।

শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, সিডরবিধ্বস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার ব্যাপক কাজ করেছে, কিন্তু টেকসই বেড়িবাঁধের নামে যে বাঁধ হয়েছে তা পরিকল্পিতভাবে হয়নি।