গত মৌসুমের শুরুতেই রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়। এজন্য প্রথম দিকে হ্রদে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। ফলে শেষের দিকে হ্রদ থেকে তুলনামূলক মাছ আহরণ করা যায়নি। আহরণে ভাটা পড়ার কারণে বিএফডিসির বার্ষিক মৎস্য অবতরণ রেকর্ড পতন হয়েছে; কমেছে রাজস্ব আয়ও। তবে চলতি মৌসুমের প্রথম তিন মাসেই বিগত মৌসুমের চেয়ে তুলনামূলক মৎস্য অবতরণ বেড়েছে বিএফডিসির। মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএফডিসির কর্মকর্তারা জানান, কাপ্তাই হ্রদে গত মৌসুমের চেয়েও এ মৌসুমে ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এবার মাছ ধরা বন্ধের সময় বাড়তি এক মাস বাড়ানোর কারণে হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। যার কারণে মৌসুমের শুরুর দিকের চেয়ে শেষ দিকে আহরণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও বিগত মৌসুমের চেয়ে অবতরণ রেকর্ড হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ মৌসুমে বিএফডিসি রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের আওতাধীন রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, মারিশ্যা ও মহালছড়ি এই চার বিপণনকেন্দ্রে ৬ হাজার ৭৯৪ টন মাছ অবতরণ করা হয়; এর বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ মৌসুমে অবতরণ করা হয় ৮ হাজার ৫৬৯ টন; বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকারও বেশি। সে হিসাবে বিগত (২০২০-২১) মৌসুমে অবতরণ হ্রাস পেয়েছে ১ হাজার ৭৭৫ টন। তবে ২০২১-২২ মৌসুমের প্রথম তিন মাসেই (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) ৩৫৭০ টন মাছ অবতরণ করা হয়েছে; যা বিগত পুরো মৌসুমের মোট অবতরণের অর্ধেকের বেশি। তবে বরাবরের মতোই অবতরণকৃত মাছের বেশির ভাগই ছোট প্রজাতির মাছ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার প্রায় ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টরের কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করাসহ হ্রদের বাস্তুতন্ত্র স্বাভাবিক রাখতে প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। বছরের আগস্টে শুরু হয় নতুন মৌসুম। পরের বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চলে আহরণ। তবে চলতি মৌসুমে হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক মাস বৃদ্ধি করা হয়। যে কারণে মৌসুমের শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে। গত বছরও কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধকালীন নির্ধারিত সময়ে পানি না বাড়ায় ১০ দিন নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়। কিন্তু ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পানিস্বল্পতার মধ্যেই মাছ আহরণ শুরু হয়ে যায়। এতে মৌসুমের শুরুর দিকে মাত্রাতিরিক্ত মাছ আহরিত হলেও শেষের দিকে হ্রদে তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। ফলে ভাটা পড়েছে বিএফডিসির বার্ষিক মাছ আহরণ ও অবতরণের রেকর্ডে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএফডিসি রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের সহকারী বাজারজাতকরণ কর্মকর্তা মো. শোয়েব সালেহীন বণিক বার্তাকে বলেন, বিগত কয়েক মৌসুমের চেয়ে গত ২০২০-২১ মৌসুমে বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ রেকর্ড হ্রাস পায়। কিন্তু গেল মৌসুমের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার তিন মাসের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা চার মাস করা হয়েছিল। তাই আমরা আশাবাদী, চলতি মৌসুমে আগের চেয়ে মাছ অবতরণের পরিমাণ বাড়বে।