বাংলাদেশে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এফওপিএল-সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে গতকাল বুধবার শেষ হওয়া দুদিনব্যাপী ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৫ সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে, যার ১৯ শতাংশ অকালমৃত্যু। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ এসব রোগের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে খাদ্যপণ্যের মোড়কের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টি-তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য বোঝা কঠিন। এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সামনের অংশে সহজ সতর্কবার্তা দেখে ভোক্তারা দ্রুত স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বাধ্যতামূলকভাবে এফওপিএল চালুর জন্য দ্রুতই প্রবিধানমালার খসড়া চূড়ান্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাস্তবায়নের ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমেছে। বাংলাদেশেও এটি চালু করা জরুরি।

জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড, মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা ভোক্তাকে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচনে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।