ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে না তুলে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতা ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, সেই দল এখন ক্ষমতায় না থাকায় ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি মেনে নেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দেশের বর্তমান ব্যবসা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক না করে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছে। এখন সেই দল ক্ষমতায় নেই, যা ভারতের জন্য মেনে নেয়া কঠিন। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে আশা করে ৫ আগস্টের নীতিগত স্বীকৃতি ঠিকমতো কার্যকর করা হবে। তিনি এই অবস্থানকে যথাযথ চিন্তাধারা বলে অভিহিত করেন।

তিনি আরো বলেন, ভারত আমাদের বড় প্রতিবেশী। আমাদের সম্পর্ক ভালো হওয়া উচিত, তবে আত্মসম্মান বজায় রেখে।

সাবেক সরকারের অনেক মন্ত্রী ও এমপির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার বিষয়টি আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত। প্রমাণ ছাড়া অন্যায়ভাবে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক নয়। আমার ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করা হতে পারে, আপত্তি নেই। তবে সবকিছুই আইন মেনে হওয়া উচিত।

বেক্সিমকো গ্রুপের পোশাক খাতের ১৬টি কোম্পানির মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত এবং কিছু কোম্পানি বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নৈতিক বা অনৈতিক নয়। তবে যারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, তাদের অনৈতিক কার্যকলাপ থাকলে আইনের আওতায় আনা উচিত। উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত নয়। হাজার হাজার কর্মীর জীবিকার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হবে না।

আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারকে আরো মনোযোগী হতে হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।