নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে তাহমিনা এক্সপ্রেস নামে একটি বালিবাহী বাল্কহেড ডুবে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে ধর্মগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা এসে বাল্কহেডের ইঞ্জিন রুম থেকে আটকে পড়া চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় বাল্কহেডের মাস্টারসহ দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসলাম হোসেন।
নিহতরা হলেন পিরোজপুরের কাউখালীর চাষেরকাঠি এলাকার আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে মোস্তফা, বটবাড়ির ছোট আরজি এলাকার রাশেদ হাওলাদারের ছেলে বাবু, ঝালকাঠির নলছিটির কান্দেবপুর এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে লুত্ফর রহমান ও বরিশালের বানারীপাড়ার ইলুহার এলাকার মহিবুল্লাহ।
নিহত লুত্ফরের ছোট ভাই কুতুব মিয়া জানান, তাহমিনা এক্সপ্রেস নামে বালিবাহী বাল্কহেডটি মেরামত করার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চটলার মাঠ এলাকায় নিয়ে এসে ডকইয়ার্ডের ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়। রাতে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে চারজন ও উপরে দুজন ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু কীভাবে ছিদ্র হয়ে ইঞ্জিন রুমে পানি ঢুকে পড়েছে সেটি আমরা বুঝতে পারিনি। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠে দ্রুত ইঞ্জিন রুমে গিয়ে চারজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বের করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই চারজনের কেউই বের হয়ে আসতে পারেনি। পরে তাদের আর্তচিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে সকালে এসে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ইঞ্জিন রুম থেকে একে একে চারজনের মরদেহ বের করে নিয়ে আসে।
বাল্কহেডের মাস্টারের বরাত দিয়ে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে বাল্কহেডটি নোঙর করে পরিষ্কার করার সময় হয়তো কোনো স্থানে ছিদ্র হয়ে যায়। পরে শ্রমিকরা ঘুমিয়ে পড়লে ভেতরে পানি প্রবেশ করে বাল্কহেডটি ডুবে যায়। এতে বাল্কহেডের ভেতরে থাকা ছয়জনের মধ্যে চারজন মারা যান।
কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের চারজনের মরদেহ কেরানীগঞ্জের মাওলা টেক্সটাইল মিলের খেয়াঘাটে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। সে আবেদন অনুযায়ী নিহতদের স্বজনদের চিহ্নিত করে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।










