২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, স্থিতিশীল কর কাঠামো এবং অনাদায়ী ঋণ শনাক্তে ফরেনসিক আর্থিক নিরীক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরো জোরদার করা হবে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল কর কাঠামো এবং অনাদায়ী ঋণ শনাক্তে ফরেনসিক আর্থিক নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব উদ্যোগ প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়মভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান দূতাবাস, ব্রিটিশ হাইকমিশন, কানাডিয়ান হাই কমিশন, জাতিসংঘ, আইএমএফ, আইএফসি, ইউএনওপিএস, ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, জিআইজেড বাংলাদেশ, ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বিডি, আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও পিপিডির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা এ গোল টেবিল বৈঠক বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের জন্য সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া সরকার, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা, দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা দৃঢ় ঐকমত্য প্রকাশ করেন এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণকে ঘিরে আসন্ন বছরগুলোয় বাংলাদেশের কৌশলগত লক্ষ্যকে সুনির্দিষ্ট ও অংশীদার-সমন্বিত অর্থায়ন পথরেখায় রূপান্তরের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।