চোখের স্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আই হেলথ বিয়ন্ড হেলথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, বসবাসের স্থান নির্বিশেষে সবারই গুণগত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ড. মুহিত বলেন, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ এবং গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় চক্ষু স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি বৃহৎ র‍্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়নে এ জরিপ দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিষয়ে সরকার এরইমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগে ছানিজনিত অন্ধত্ব দূরীকরণে ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০: ছানি নির্মূল কর্মসূচি’র উদ্বোধন করা হয়।

সেমিনারে দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রস পাইপার, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. কাদির এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।