সমতলের কৃষকদের মতো পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদেরও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা করে আধুনিক কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘কৃষি বিপ্লবের এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। দেশে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে কফি, কাজুবাদাম, হলুদ, ইক্ষু ও বাঁশের চাষ বাড়ানো গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’ 

গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। 

বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং দুই মন্ত্রণালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেলের রাজপুত্র ও পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রুকে কৃষিমন্ত্রী উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনা ও উন্নয়নের কৌশল তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার দুর্গম অঞ্চলগুলোয় ক্ষতিকর তামাক ও নেশাজাতীয় উদ্ভিদ চাষ পুরোপুরি বন্ধ করাই প্রধান লক্ষ্য। এজন্য কৃষকদের বিকল্প ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। সমতলের কৃষকদের মতো পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদেরও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।’ 

পার্বত্যমন্ত্রীর এসব উদ্যোগ ও প্রস্তাবকে স্বাগত জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি ও সমতল—উভয় অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে।’