এমপিও পেতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগসহ নানা অপতত্রপতার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট মাউশির রাজশাহীর পরিচালক ও সহকারী পরিচালককে (কলেজ) লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন ওই জেলার ভোলাহাট জামবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন। এর আগে ওই অধ্যক্ষের দুই দফা এমপি আবেদন বাতিল করে দেয় আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর। এমপিও আবেদন বাতিল হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উেকাচ দাবির অভিযোগ তোলেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আগের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র ছাড়াই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের প্রথম দফা এমপিও আবেদন বাতিল হয়ে যায়। আবেদন বাতিলের কারণ উল্লেখ করে ওই সময় অধ্যক্ষকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। সে নির্দেশনা না মেনে তিনি আরেক দফা এমপিও আবেদন করেন। মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ে ধরনাও দেন। নানা কৌশলে চাপ দেন কর্মকর্তাদের। শেষে আইনজীবীর মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিচালক বরাবর লিগ্যাল নোটিস পাঠান। ১৯ আগস্ট সেই লিগ্যাল নোটিসের জবাব দিয়েছেন আঞ্চলিক পরিচালক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন ২০০৩ সালের ২৩ জুলাই সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট সোলেমান ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন। কর্মস্থল পরিবর্তন করে ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর ভোলাহাটের জামবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেন। একদিন পর ১০ অক্টোবর সোলেমান ডিগ্রি কলেজে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরদিন ১১ অক্টোবর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।

এমপিওভুক্তির জন্য চলতি বছরের ৪ এপ্রিল প্রথম দফা অনলাইনে আবেদন করেন। ‘যোগদান প্রক্রিয়া পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ায়’ তার সে আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এর দুই মাস পর ৩ জুন আবারো তিনি এমপিও পেতে অনলাইন আবেদন করেন। একই কারণে তার সে আবেদনটিও বাতিল হয়ে যায়।

এমপিও সংশ্লিষ্টদের দাবি, আবেদনকারী অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেছেন ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর। কিন্তু তখনো তার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র মেলেনি। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর পরিচালনা কমিটির সভায় ছাড়পত্রের বিষয়টি উঠলেও সেটি আটকে যায়। ওই সভার রেজল্যুশনে তার পদত্যাগের বিষয়টি স্থগিত রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে।

এর প্রায় দুই বছর পর ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর পরিচালনা কমিটির সভায় তার ছাড়পত্র অনুমোদন মেলে। পরদিন ২৪ নভেম্বর তিনি ছাড়পত্র পান।

তার আবেদনপত্র বাতিলের ব্যাখ্যায় আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র ছাড়াই তিনি জামবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছেন। আগের কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন যোগদানের প্রায় দুই বছর পর। এতে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে।

অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, তার আবেদনটিও পর্যালোচনা না করেই বাতিল করা হয়েছে। আইনি প্রতিকার পেতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন।

মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক ড. কামাল হোসেন জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা তার এখতিয়ারের মধ্যে নেই।