প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গুজব ও মানহানির নামে নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন বিরোধী দলের আইন প্রণেতা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী এবং বিশেষজ্ঞরা। এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা জানান, অস্পষ্ট সংজ্ঞার ভিত্তিতে গুজব, মানহানি বা মতপ্রকাশের অভিযোগে মামলা ও শাস্তির সুযোগ তৈরি হলে যৌক্তিক সমালোচনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজার বিডিবিএল টাওয়ারে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘আবারও হুমকির মুখে বাক্‌স্বাধীনতা? সংশোধিত সাইবার আইন কতটুকু বিতর্কিত কতটুকু ডিএসএ-এর প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।

ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ, সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন, অল্টারনেটিভের সংগঠক ডা. তাজনুভা জাবীন, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ভয়েস ফর রিফর্মের সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন, জেডিপি আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদার ভূঁইয়া, সপ্রাণের রিসার্চ ডিরেক্টর জারিফ রহমান, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হুসাইন ও ডিএসএ ভিকটিম নেটওয়ার্কের গোলাম মাহফুজ।

সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, বাক্‌স্বাধীনতা না দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। গুজব ও অপপ্রচারের নামে মূলত মফস্বলের সাধারণ মানুষকে বেশি ভুক্তভোগী হতে হবে। তিনি বলেন, দেশে জুলুমের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিভিন্ন নামে কালো আইন ফেরত আসছে। র‍্যাবের নাম পরিবর্তন হলেও এর চরিত্র বদলায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই তদন্তের দায়িত্ব দিলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। কথা বলার স্পেস সংকুচিত হওয়াও উদ্বেগজনক।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, সাইবার আইনে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কোন কোন ক্ষেত্রে আইন প্রয়োজন আর কোন কোন ক্ষেত্রে আইন প্রয়োজন নেই, তা আগে বোঝা উচিত।

অল্টারনেটিভের সংগঠক ডা. তাজনুভা জাবীন বলেন, গুজব ও মানহানির জন্য প্রস্তাবিত শাস্তি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করবে। ধর্মীয় বিদ্বেষ বা সহিংসতার জন্য দুই বছরের শাস্তি রাখা হলেও গুজব ও অপতথ্যের জন্য ১০ বছর শাস্তির প্রস্তাব বৈষম্য তৈরি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভয়েস ফর রিফর্মের সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নাগরিককে সুরক্ষা দেয়ার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদার ভূঁইয়া বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দায়মুক্তির বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদ্‌বেগের জায়গা। তার মতে, শাস্তি বাড়িয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগই গুরুত্বপূর্ণ।