তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা থাকবে না। জনগণের ভালোবাসা ও ভোটেই চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।’
গতকাল রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সামনের বছরের প্রথম দিকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন হবে একেবারে নিরপেক্ষ। এখানে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবেন না। জনগণের ভালোবাসা নিয়েই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র কিংবা গণতন্ত্র কোনোটিই শক্তিশালী হতে পারে না। উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা ও জনসেবার বড় অংশ পরিচালনা করে। বাংলাদেশেও সেই কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ও ক্ষমতায়িত করতে হবে।’
তার মতে, অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নানান অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রমাণ ছাড়া ইচ্ছামতো অপসারণ করা উচিত নয়। আইন ভঙ্গ বা অপরাধ প্রমাণ হলেই কেবল ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ ক্ষমতায়ন ছাড়া স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না। শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। উন্নয়ন কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।’
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা অপ্রতুল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি নিজেও পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সমস্যা আমি জানি। তাদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে নেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এ নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সংগঠন গঠনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওই সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের দাবি-দাওয়া ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আরো সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. পয়গাম আলী এবং বাংলাদেশ ইউনিয়ন মেম্বার কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।










