তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং মতপ্রকাশের ন্যূনতম স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানুষের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ উন্নয়নের পথকে আরো এগিয়ে নেবে।’
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চ শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য শুধু নির্বাচন যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে জবাবদিহি, দায়িত্ববোধ, নৈতিক ভিত্তি এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।’
তার মতে, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম সততা ও জবাবদিহি না থাকলে গণতন্ত্র দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সামাজিক আস্থা, সহযোগিতা ও মূল্যবোধের মতো সামাজিক মূলধনও গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সামনে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। তাতে দেশের সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।’
আলোচনা সভায় আরেক অতিথি অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিকও। শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দৃঢ় ভিত্তি পায়নি।’
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।










