বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য বিদেশী কর্মীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নয়, বরং দেশীয় জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করা। প্রাথমিকভাবে বিদেশী কর্মী আনা যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের দক্ষ জনশক্তিই প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ওয়ার্ক পারমিট অ্যান্ড সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রসেস’ শিরোনামে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
বিডা চেয়ারম্যানের নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার সহযোগী ছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট হারের বেশি বিদেশী কর্মী রাখতে পারবে না। বিদেশ থেকে আসা কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফেরানো হয়। লক্ষ্য থাকবে দেশের নিজস্ব কর্মীকে দক্ষ করে তোলা, যাতে পরবর্তীতে বাইরের লোকের প্রয়োজন না হয়।
তিনি আরো বলেন, বিদেশী কর্মীরা অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও নির্দিষ্ট সময়সীমার পর তাদের থাকতে দেয়া হবে না। কোনো প্রকার সুবিধা শুধু বিদেশী হওয়ার কারণে দেয়া হবে না।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী আশিক জানান, দেশের পরিবেশ ও ব্যাটারি শিল্প এখনো উন্নত মানের নয়। লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি এখনো বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু বিদেশী নয়, দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও দায়িত্বশীল। ব্যাটারি রিসাইক্লিং প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় এনে পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, বিদেশী কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে। বিদেশী আনা ব্যয়বহুল, তাই একই দক্ষতার দেশীয় কর্মী থাকলে বাইরে থেকে কর্মী আনার প্রয়োজন নেই। গত এক বছরে অনেক আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ দেশের ভেতরেই সেই দক্ষতা পাওয়া গেছে।
চৌধুরী আশিক স্বীকার করে বলেন, নতুন প্রকল্প যেমন এমআরটির জন্য শুরুতে বিদেশী বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। তবে সময়ের সঙ্গে দেশীয় প্রকৌশলীরা দক্ষ হয়ে উঠলে ভবিষ্যতে বিদেশীদের প্রয়োজন কমবে।
কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন ও বিডার মহাপরিচালক মো. আরিফুল হকও বক্তব্য রাখেন।










