হাওরে ইজারা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা নষ্ট করে হাওরের ইজারা দেয়া ঠিক নয়। এটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। যেসব এলাকায় সমস্যা রয়েছে, আমাদের জানালে আমরা সেখানে যাব।

আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এএলআরডি, বারসিক ও বেলা আয়োজিত জাতীয় হাওর সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার হাওরের জীববৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১৪৩ প্রজাতির দেশী মাছ, ১২ প্রজাতির বিদেশী মাছ, মিঠা পানির চিংড়ি, শামুক ও ঝিনুক। এ ছাড়া দেশের মোট গবাদি পশুর ২২ শতাংশ, হাঁসের ২৪ শতাংশ, ১২৯ প্রজাতির দেশী ও ১২৮ প্রজাতির বিদেশী পাখি, ২৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং ৪০ প্রজাতির সরীসৃপ এখানে পাওয়া যায়। এমনকি বিভিন্ন প্রকার ধানও হাওরের বিশেষ সম্পদ।

তিনি বলেন, হাওর মৎস্যজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এখানে অনেক অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অন্যায়ভাবে এ পেশায় প্রবেশ করেছে। কিন্তু হাওর রক্ষার দায়িত্ব কেউ নিতে চায় না। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পালন করবে।

উপদেষ্টা জানান, হাওরে উফশী ও হাইব্রিড ধানে কীটনাশক ও হার্বিসাইডের ব্যবহারে মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ধান কাটার মেশিন ব্যবহারে মা মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি কৃষি উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি, যেন হাওরের ধানে কীটনাশক ব্যবহার না করা হয়। আমাদের মা মাছকে রক্ষা করতে হবে।

হাওর সংলাপে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, শেয়ার দ্য প্ল্যানেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তেৎসু চুচুই, বেলার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি ড. লেলিন চৌধুরী, অধ্যাপক আফজালুর রহমান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রধান মো. বেলাল উদ্দীন বিশ্বাস।

সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাওরাঞ্চলের কৃষক, জেলে, আদিবাসী ও স্থানীয় প্রতিনিধি, সাংবাদিক, উন্নয়ন সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেন।