চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল আহমেদ ওবিই ডিবিএ। গতকাল রোববার (২৩ মার্চ) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী এ ব্যবসায়ী এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সীমার্ক গ্রুপ অফ কোম্পানিজ এবং আইবিসিও ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী।
সুশাসনের ঘাটতি তৈরী হওয়ায় গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি, এনআরবি কমার্শিয়াল ও মেঘনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে তিনটি ব্যাংকের জন্যই নতুন পর্ষদ গঠন করে দেয়া হয়। নতুন পর্ষদে এনআরবি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেবল ইকবাল আহমেদ স্থান পান।
ব্যাংকটির অন্য পরিচালকরা হলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ফেরদৌস আরা বেগম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শেখ মো. সেলিম, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রাইম ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মতিউর রহমান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শরীফ নূরুল আহকাম এবং পেশাদার হিসাববিদ মিজানুর রহমান।
পর্ষদ পুনর্গঠনের পর প্রথম সভায় গতকাল ইকবাল আহমেদকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের অন্যান্য কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পর্ষদ ভেঙে দেয়ার আগে এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন দুবাইভিত্তিক আল হারামাইন গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির।
২০১৬ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পুরো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেন। আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করে স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূ, ভাই, ভাতিজাসহ বিভিন্ন নামে-বেনামে শেয়ার কিনে পুরো পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের বড় অংশকে পর্ষদ থেকে বের করে দেন অলিগার্ক হিসেবে পরিচিত এ ব্যবসায়ী।
বর্তমানে মাহতাবুর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হুন্ডি কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে।










